প্রবন্ধ রচনা

শিষ্টাচার কাকে বলে? |শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ রচনা | – snigdhasokal.com

 শিষ্টাচার কাকে বলে? অথবা শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ রচনা

 

শিষ্টাচার কাকে বলে?  |শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ রচনা |  - snigdhasokal.com

ভূমিকা : সুন্দর আচরণ বা ব্যবহারই হলো শিষ্টাচার ।সে আচরণ –কথাবার্তায় ,কাজকর্মে ,চলনে-বলনে ,রীতিনীতিতে সর্বোপরি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ।যাকে বলে আদব –কায়দা মেনে চলা বা ভদ্র ব্যবহার ও সৌজন্যবোধ দেখানো ,তাই মূলত শিষ্টাচার ।শিষ্টাচরি হলো মনের সৌন্দযের বাহ্য উপস্থাপনা ।বস্তুত সত্যিকারের মানুষের পরিচয় তার সুন্দর ,সংযত ও বিনয়ী ব্যবহারে ।রাজা সলোমন বলেছেন ,‘অহঙ্কার মানুষের পতন ঘটায় ,কিন্তু বিনয় মানুষের মাথায় সম্মানের মুকুট পরায়’।শিষ্টাচার হলো এই বিনয় বা নম্রতা ,বিশেষ করে আচরণে তার সার্থক বহিঃপ্রকাশ।Oscar Wilde  তাঁর “The Importance of Being Earnest’ নাটকে বলেছেন ,`Courtesy and politeness are the basic principle which irects human life smoothly .’

শিষ্টাচার ও সৌজন্য বলতে কী বোঝায় : 

আভিধানিক  অর্থ রুচিপূর্ণ ভদ্র ব্যবহারই শিষ্টারচার –সৌজন্য ।শিষ্টাচার কথাটির মধ্যেই তার তাৎয লুক্কায়িত ।শিষ্টাচার শব্দটিকে ভাঙলে যে দুটি শব্দ পাওয়া যায় তা হলো :শিষ্ট +আচার;এর অর্থ বিনীত ,সংযত ,শোভন আচার-ব্যবহার ।ভদ্রতা ও সুরুচিবোধের যৌক্তিক মিলনের নাম শিষ্টাচার ।আত্নীয় –অনাত্নীয় ,পরিচিত –অপরিচিত সকলের সঙ্গে প্রীতিপূর্ণ ,রুচিসম্মত ব্যবহারই শিষ্টাচার ।শিষ্টাচার ও সৌজন্য উভয়ই সমার্থ হলেও দুয়ের মধ্যে রয়েছে সূক্ষ পার্থক্য ।শিষ্টাচারে সকলেই মুগ্ধ হয় ।আর  সৌজন্য বলতে বাইরের মার্জিত ব্যবহারই শুধু নয় ,নয় ভদ্রতার সামাজিক রীতি অনুসরণ ,এর সঙ্গে যুক্ত আছে সুজনের মহৎ হৃদয়ের গভীর উষ্ণ স্পর্শ আছে অন্তর –সৌন্দযের বিকশিত মহিমা ।

মানবজীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব: 

দেহের সৌন্দয অলঙ্কার কিন্তু আত্নার সৌন্দয শিষ্টাচার ।অলঙ্কার বাইরের সামগ্রী আর শিষ্টাচার অন্তরের ।মানুষ যতদিন অরণ্যচারী ছিল ,ততদিন সে শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ প্রকাশের প্রয়োজনবোধ করে নি ।যখন থেকে মানুষ সমাজবদ্ধ হলো,তখন থেকে শিষ্টাচার ও ভদ্রতাবোধের প্রয়োজন অনুভুত হলো ।শিষ্টাচার শুধু আমাদের ব্যক্তিজীবনের সৌন্দযই নয়,আমাদের সমাজজীবনেরও গৌরবজনক আভরণ ।শিষ্টাচারের গুণেই মানুষের সঙ্গে মানুষের যে কোনো সম্পর্ক রাখা সম্ভবপর হয় ।বড় ও বয়স্কদের সম্মান করা,সকলকে আচরণে তুষ্ট করা ,ঔদ্ধত্যকে পরিহার করা এবং সঙ্গে প্রীতিময় সম্পর্ক গড়ে তোলাই তো মানবিক বৈশিষ্ট্য ।মার্জিত রুচি ও সুন্দর মনের পরিচয় দিতে হলে কথাবার্তায় ও আচার –আচরণে আমাদের হওয়া উচিত নম্র ও বিনয়ী ।শিষ্টাচার ও সৌজন্য সামাজিক মানুষের এক দুর্লভ সম্পদ-তার সৌন্দয ,তার অলঙ্কার ।এ তার দীর্ঘ জীবনসাধনার পরিণত ফল ।তার সিদ্ধি ।বহু যত্নে আহৃত এক দুর্লভ ঐশ্বয ।একে আয়ও করেই মানুষের গর্ব ,তার অহঙ্কার ,তাই গৌরব ।যে-পরিমাণে সভ্য ।তার লোক-ব্যবহার ও তত মার্জিত ,সদ্ভাবমূলক ।একে নির্বাসন দিয়ে মানবসভ্যতার অগ্রগতি সম্ভব নয় ।উন্নত সভ্যতা তো এরই অবদানপুষ্ট ।এই শিষ্টাচার ও সৌজন্য কোনো অর্থ বা ঐশ্বয দিয়েই কেনা যায় না ।

ছাএজীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব : 

ছাএজীবনে হলো মানুষের প্রস্তুতিপর্ব ।এরই ওপর নির্ভর করে তার পরবর্তী জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতা ।নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ জীবনের গতি –প্রকৃতি ।এসময়ই হলো তার শিষ্টাচার ও সৌজন্য শিক্ষার যথার্থ কাল ।তার উন্নেষ –লগ্ন ।শিষ্টাচার ও সৌজন্যের ছোয়াতেই ছাএ হয় বিনীত ,ভদ্র ।নতুন প্রাণ-সম্পদ হয় গৌরবান্বিত ।ছাএজীবনের যে গুরুজনদের শ্রদ্ধা করতে শিখল না ,যার উদ্ধত ,অবিনীত ব্যবহারে শিক্ষক বিরক্ত ,যার রূঢ়,অমার্জিত আচরণে সহ-বন্ধুরা ক্ষুদ্ধ ,বেদনাহত ,পরবর্তী জীবনের ও তার একই আচরণের পুনরাবৃওি ঘটে ।তখন সে হয় অশুভ –শক্তি ,অকল্যানের মূর্ত প্রতীক ।হতাশা ,ব্যর্থতার তিল তিল দংশন –জ্বালায় সে নিজেকে নেঃশেষ করে ।ছািএজীবনই মানুষের সুকুমারবৃওি লালনের শুভক্ষণ ।এখানেই তার চরিএগঠনের ব্রত-অনুষ্ঠান ।শিষ্টাচার ও সৌজন্য তো তার মনুষ্যত্ব অর্জনেরই সোপান ।এরই মধ্যে আছে নিজেকেক সুন্দর ও সার্থকতায় পরিপূর্ণ করে তোলার মহাশক্তি ।ছাএজীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ ঘটে পোশাক –পরিচ্ছদে ।তাই পোশাক –পরিচ্ছেদে সুরুচির পরিচয় থাকতে হবে ।শিষ্টাচার ,সৌজন্য প্রকাশের জন্যে ছাএদের কিছু হারাতে হয় না,কোনো অর্থ ব্য য় করতে হয় না ,বরং এক মহৎ অঙ্গীকারে তার সমৃদ্ধ জীবন-বিকাশের পথ প্রশস্ত হয় ।বিনয়ী ,ভদ্র ছাএ শুধু শিক্ষকের স্নেহই কেড়ে নেয় না,সে পায় শিক্ষকের আশীর্বাদ ,পায় তাঁর সাহায্য ।শিষ্টাচর ও সৌজন্যর অভাব ছাএকে অবিনীত ,স্বার্থপর ,নিষ্ঠুর করে ।ধ্বংস করে তার প্রেম ,মমতা ,সহানুভুতি ,দয়া ইত্যাদি সুকুমার বৃওি ।এর অভাবেই তাকে ঠেলে দেয় অন্যায় ও অসত্যের চোরা-অন্ধকারে ।সেই অন্ধকার শুধু ব্যক্তিকেই আচ্ছন্ন করে  না ,গ্রাস করে গোটা সমাজকে ।

সামাজিক রীতি ও শিষ্টাচার : 

একবিংশ শতাব্দীর দোর-গোড়ায় দাঁড়িয়ে আমাদের হিসাব –নিকাশ করতে হবে ।তা হলে দেখতে পাব,সভ্যতা আমাদের শিষ্টাচার উপহার দিয়েছে এবং তা মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ।কেবল এর জন্যেই আমরা সুসভ্য মানুষ ।হিসেবে দর্ববোধ করতে পারি ।যে সমাজ যত সভ্য ,তার লোক-ব্যবহার তত মার্জিত ।সদ্ভাবমূলক এবং সুরুচিব্যঞ্জক ।সেই লোক-ব্যবহারকে কোথাও কোথোও রীতিমাএ বলে ভ্রম হয় ।সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌভাতৃত্ব ও সৌষ্ঠুর রক্ষার্থে কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করতে হয় ,তাকে রীতি বলা হয় ।কিন্তু ভদ্রতা রীতিমিএ নয় রীতি কেবল বাইরের অভ্যবসমাএ ,যাতে অন্তরের স্পর্শ থাকে না ।

শিষ্টাচার ও স্পষ্টবাদিতা বা শিষ্টাচার অর্জনের উপায় :

‘The greatest ornament of an illustrious life is modesty and humanity .’ আশৈশব আত্নসংযম ও মার্জিত প্রকাশভঙ্গির অনুশীলন –ফল হলো শিষ্টাচার ।কাজেই আত্যন্কি স্পষ্টবাদিতার সঙ্গে রয়েছে শিষ্টাচারের মৌলিক গরমিল ।স্পষ্টবাদিতার দোহাই দিয়ে ইতরতা বা রুঢ়তার অস্ত –প্রয়োগ সামাজিক শালীনতাবোধকে পীড়িত করে ।তথাকথিত স্পষ্টবাদীর দল লোক-সমক্ষে নিজেদের অসাধরণরূপে জাহির করবার ঘৃণ্য লোভ সংবরণ করতে না পেরে সামাজিক শিষ্টাচারকে পদদালিত করে এক –এক সময় অত্যন্ত রূঢ় কথা বলে ফেলেন ।অথচ সেই সত্য বাক্যটিকে অপ্রিয়ভাবে না বলে মার্জিত ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে পারলে আত্নিক সমুন্নতি প্রকাশ পেত ।ইংরেজিতে একটি প্রবাদ  আছে –Courtesy costs nothing but buys everything .’শিষ্টাচারের গুণে মানুষের হৃদয়ে অতি সহজেই জায়গা করে নেয় যায় ।

শিষ্টাচার ও খোশামোদ –বৃওি :

ভদ্রতা হলো সব মানুষের প্রতি সমান দৃষ্টি ,আর খোশামুদির দৃষ্টি কেবল নিজের প্রতি নিবদ্ধ ।শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ নিজের অসুবিধা করে পরের সুবিধা করে দিতে উৎসুক ;খোশামেদ –বৃওি বোঝে শুধু নিজের সুবিধা আর খোঁজে আত্নসুখ ও আত্ন সমৃদ্ধি ।শিষ্টাচার বা সৌজন্য বোধ সৌষ্ঠবমন্ডিত ,সরল ও সুন্দর ।খোশামোদ –বৃওি সৌষ্ঠবহীন ,কুটিল ও কুৎসিত ।শিষ্টাচারে আছে বিশ্বমুখিনতা ,আর খোশামোদ –বৃওিতে আছে আত্নমুখিনতা ।

চক্ষুলজ্জা ও শিষ্টাচার :

চক্ষুলজ্জা নামে একটি সামাজিক উপসর্গ শিষ্টাচারের বেনামিতে লোক-সমাজে প্রচলিত আছে ।চক্ষুলজ্জার খাতিরে অসত্যকে সত্য বলে স্বীকার করা একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি ।শিষ্টাচারের সঙ্গে দৃঢ়তার মিশ্রণই এই ব্যাধির সঠিক চিকিৎসা ।এদেশে অমায়িক এবং লোকপ্রিয় মানুষের খু্বই অভাব ।তাই আমাদের সমাজে এখনো শিষ্টাচার নামক স্বভাবটি গড়ে উঠতে পারেনি ।

শিষ্টাচার ও রাষ্ট্র :

পরিবার ,সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে শিষ্টাচারের গুরুত্ব অপরিসীম ।শিষ্টাচারের অভাবে মানুষ মানুষে ,জাতিতে জাতিতে বিরোধ ও দ্বন্দযুদ্ধ লেগেই থাকে ।তাই আচার ব্যবহার যেমন শিষ্টতা বজায় রাখতে হবে ,তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নেতৃত্বে প্রদানে শিষ্টতার পরিচয় দেয়া অপরিহায ।সমাজের প্রতিটি পেশার মানুষ তার নিজ নিজ কর্মে শিষ্টতা বজায় রাখলে সমাজে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করে ।সামাজিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে শিষ্টাচারের কোনো বিকল্প নেই ।যে জাতি যত বেশি সভ্য সে জাতি তত  বেশি শিষ্টাচার ।শিষ্টাচারের কোনো বিকল্প নেই ।যে জাতি যত বেশি সভ্য সে জাতি তত বেশি শিষ্টাচার ।শিষ্টাচারহীন সমাজ ও জাতি ক্রমেই নিমজ্জিত হয় অন্ধকারে ।

শিষ্টাচার না থাকার কুফল :

শিষ্টাচারের মাধ্যমে মানবিক সওার বিকাম ঘটে বলে ঔদ্ধত্য আর উচ্ছৃঙ্খলতা এখানে পরাজিত হয় ।দূর হয় কদযতা ও অশ্লীলতা ।শিষ্টাচারের গুণেই ব্যক্তি মানুষ হয়ে ওঠে সহজ-সরল ,স্পষ্ট ,সৎ ও মার্জিত ।আজ সমাজের নানা ক্ষেত্রেই অশিষ্টচারের ও সৌজন্যহীনতার নিষ্ঠুর চিএ ।দিন দিন মানুষের উচ্ছঙ্খলতা বাড়ছে ।বাড়ছে তার সীমাহীন ঔদ্ধতা ।সমাজে সৌন্দয আর সুকুমার প্রবৃওিগুলোর দেখা মেলে না ।আজ বার্ধক্যকে সম্মান করি না ।শ্রদ্ধয়দর করি অবজ্ঞা ,পুরাতনের প্রতি অশ্রদ্ধা ।ফলে সৃষ্টি হচ্ছে মানুষে মানুষে বিরোধ ।শিষ্টাচারের অভাবে সমাজ অন্তঃসারশূন্য ,বিবেকহীন হয়ে পড়েছে ।চারদিকে আজ বিওবানের নির্লজ্জ ঔদ্ধতা ,প্রবলের সীমাহীন অত্যাচার ।আজ শিষ্টাচার ও সৌজন্য দুর্বলের ভীরুতা্রেই অসহায় প্রকাশ যেন ।মানুষকে অপমান করতে পারলেই বুঝি তৃপ্তি ।দুর্ব্যবহার ও দুর্মুখতাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে ।অবিনয় আজ আর তার লজ্জা নয় ।সমাজের সর্বক্ষেত্রে আলোপ-আলোচনায় অমার্জিত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ।শিষ্টাচর ও সৌজন্যবোধের সৌন্দয হারিয়ে মানুষ আজ নিঃস্ব ,হৃদয়হী ন ।অন্তরের পুষ্পিত শতদল আজ ছিন্নভিন্ন ।বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে শিষ্টতার কোনো বিকল্প নেই ।প্রকৃতপ্রস্তাবে শিষ্টতার মধ্যে দিয়েই আমরা আদর্শ সমাজ গঠন করতে পারি ।

উপসংহার :

মোট কথা,দৈনন্দিন জীবনযাএার সংসার –চক্রের অনিবায ঘর্ষণে যে শ্বাসরোধকারী ধূম্রজাল উতিত হতে থাকে ,শিষ্টাচারের স্নিগ্ধ শান্তি –বারি সিঞ্চনেই তা নিবারিত হতে পারে ।শিষ্টাচার ধুলি –মান পৃথিবীর রুক্ষতাকে কোমলতা দান করে দৈনিক জীবনযাএাকে শোভামন্ডিত করে তোলে ।অতিসাম্প্রতিককালের মতো মানবসভ্যতার এমন সংকট আর কখনো দেখা যায়নি ।গত শতাব্দীর অপরাহ্নে এসে সভ্যতা একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেছে ।সভ্যতার যা আত্নিক সম্পদ,যা যুগ –যুগান্তরের চিৎ -প্রকর্ষের অনবদ্য যোগফল ,যা কর্ম ও বাক্যর নিকষিত হেম’সেই শিষ্টচার ও সৌজন্যবোধের দুর্ভিক্ষ আজ দিকে দিকে মরু –রসনা বিস্তার করছে  ।এ থেকে মুক্তি চাই –এই হোক নতৃন শতাব্দীর অঙ্গীকার ।  

 

 শিষ্টাচার কাকে বলে? অথবা শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ রচনা 

 ভূমিকা:

 মানুষ সামাজিক জীব ।প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত আমরা পরিবারের লোকজন ,প্রতিবেশী ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের সাথে বিভিন্ন কারণে দেখাশোনা করি ,মতবিনিমিয় করি ।এসব কাজে প্রত্যেকের সাথে মার্জিত ও ভদ্র ব্যবহারের নামই শিষ্টাচার ।মোট কথা,সবার সাথে ভদ্রজনোচিত শালীন আচার –ব্যবহারকেই ‘শিষ্টাচার বা আদব –কায়দা ’বলা হয় ।

মানব জীবন ও শিষ্টাচার :

মানব জীবেনের প্রথম শিক্ষাক্ষেএ বা লালনক্ষেএ হল পরিবার ।পরিবারে থাকেন বাবা ,মা,দাদা,দাদী অর্থাৎ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ ,সময়বয়সী ভাইবোন আর ছোটরা ।অবস্থাভেদে তাদের সবার সাথে প্রয়োজনানুসারে মার্জিত ব্যবহার না করলে পারিবারিক শান্তি ও সৌহার্দ বজায় থাকে না ।অতএব পারিবারিক মধুর সম্পর্ক ,শান্তি সৌহার্দ বজায় রাখার জন্য সবাইকে শিষ্টাচার বা আদব –কায়দা জানতে হয় ।এরপর ধরা যাক বিদ্যালয় ।এখানে থাকেন শিক্ষক মহদয়গণ এবং উপর ও নিচের ক্লাসের ছাএ –ছাএীবৃন্দ ।শিক্ষকদের মান্য করতে হয় ,শ্রদ্ধা করতে হয় ,ছাএ –ছাএীদের সাথে সৌজন্য দেখাতে হয় ।নইলে সেখানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ থাকে না ।

শিষ্টাচারের প্রয়োজনীতা :

যারা আমাদের প্রতিবেশী ,তাদের সাথে শিষ্টাচার প্রদর্শন না করলে সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয় ।একে অন্যের শএুতে পরিনত হয় ।পক্ষান্তরে ভদ্র ব্যবহার ,হাসিমাখা সম্বোধন প্রতিবেশীর মন সহজেই জয় করতে পারে ।এভাবে রাস্তা ঘাটে ,হাটে-বাজারে ,শহরে –বন্দরে চলতে আমরা অনেক পরিচিত –অপরিচিত লোকের সাথে মিলিত হই ।সর্বএ ভদ্র ও সুন্দর ব্যবহার করলে কতই না সুন্দর হয় ।

সমাজবদ্ধ জীবনে প্রত্যেকেই শিষ্টাচার কামনা করে ।শিষ্টাচারের মাধ্যমে বড় ধরনের মতবিরোধ ও প্রশমিত হয় ।জীবন হয়ে ওঠে সুন্দর সাবলীল ।যারা জীবনে বড় হয়েছেন ,জ্ঞানী হয়েছেন ,যারা মহাপুরুষ ,তাঁরা সবাই বিনয়ী,শিষ্টাচারী ।শিষ্টাচার একটন মানুষের অপরিহায গুণ ।যে আদব –কায়দা জানে না ,যে মানুষের সাথে ভদ্র ব্যবহার করে না ,তাকে কেউ পছন্দ করে না ।পক্ষান্তরে ,শিষ্টাচারীকে সবাই ভালোবাসে ।পৃথিবীর প্রত্যেক ধর্মে শিষ্টাচারের জন্য কঠোর নির্দশ রয়েছে ।ইসলামে সৌজন্যমূলক আচরণ ও প্রীতিপূর্ণ ভাষণ করার জন্য বারবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।মহানবী মুহাম্মদ (স) ছিলেন শিষ্টাচারের এক মূর্ত প্রতীক ।তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম

শিষ্টাচারের সুফল :

যার জীবনে শিষ্টাচার রয়েছে ,সে একজন আদর্শ চরিএবান ব্যক্তি ,একথা নিদ্ধিধায় বলা যায় ।শিষ্টাচারের অধিকারী ব্যক্তি জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে ।তাই শিষ্টাচারের সুফল সুদূরপ্রসারী ।

শিষ্টাচার ও সামাজিক জীবন :আমাদের জাতীয় জীবনে শিষ্টাচারের প্রয়োজন অপরিসীম ।যার মধ্যে শিষ্টাচারিতা নেই ,সমাজে তার মূল্য অনেক নিম্নস্তরে ।সুন্দর ,মার্জিত এবং উপযুক্ত শিষ্টাচারের একজন মানুষকে সামাজিকভাবে অনেক উচু আসনে নিয়ে যায় ।তাই সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আমাদের জীবেনে শিষ্টাচারিতার অনেক প্রয়োজন রয়েছে ।

উপসংহার :

শিষ্টাচার বা আদব –কায়দা মানব জীবনের অপরিহায গুণাবলির অন্যতম ।শিষ্টাচার ছাড়া কেই সমাজে প্রতিষ্টিত হতে পারে না ।তাই আমাদের শিষ্টাচার সম্পর্কে বাল্যকাল থেকেই যথাযথ পাঠ নেয়া দরকার ।পারিবারিক পরিমন্ডল থেকে এর পাঠ শুরু হয় ।তারপর বিদ্যালয় ও সমাজের সর্বএই চলতে ফিরতে শিষ্টাচারী হওয়া প্রয়োজন ।এক কথায় ,শিষ্টাচার মানব চরিত্রের এক অমূল্য সম্পদ ।‍

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button