ব্যকরণ

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড – ভাবসম্প্রসারণ – snigdhasokal.com

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড – ভাবসম্প্রসারণ

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড - ভাবসম্প্রসারণ
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড
ভাব-সম্প্রসারণ: শিক্ষা বা জ্ঞানেই মানুষের জীবনধারণ ও উন্নতির প্রধানতম সহায়ক বা নিয়ামক।
ব্য্িকত লো জাতি গঠনের উপাদান। আর সঠিক শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ডহীন বানুষকে যেমন একতাল মাংসপিন্ড ছাড়া অন্য কিছু কল্পনা করা যায় না, তেমনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জাতিকেও জাত হিসেবে কল্পনা করা যায় না। কোনো জাতিকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে হলে প্রতিটি ব্যক্তিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আদর্শ শিক্ষাপর মাঝেই জাতির ভবিষ্যৎ লুকায়িত থাকে। শিক্ষাবিহীন জাতি মাঝিবিহীন নৌকার মতো। শিক্ষা জাতকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায় । আর শিক্ষাবিহীন জাতি মাঝিবিহীন নৌকার মতো। শিক্ষা জাতিকে সমৃ্দ্ধির দিকে নিয়ে যায়। আর শিক্ষাবিহীন জাতি জড়তা ও কুসংস্কারের আচ্ছন্ন হয়ে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিক ধাবিত হয় । শিক্ষািই একমাত্র উপায় যা জাতিকে মুক্তি ‍দিতে পারে। বর্তমা বিশ্বে দেখা যায়, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত।
বস্তুত, শিক্ষার প্রসারই পারে সব কুসংস্কার, জড়তা দূর করে জাতিকে গতিশীল করতে; সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে, আশা ও স্বপ্ন দেখার সাহস যোগাতে। তাই জাতীয় জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড
মূলভাব: জাতির উন্নতির মূল হলো শিক্ষা।
সম্প্রসারিত- ভাব: শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ডসম। মেরুদন্ড না হলে মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ড প্রাণী যেমন চরতে পারে না, তেমনি শিক্ষা ছাড়াও কোনো জাতির উন্নতি করতে পারে না। তাই শিক্ষাকে জাতির মেরুন্ড বললে অত্যুক্তি করা হয় না। কোনো জাতির যতই জনবল ও ধনাসম্পত্তি থাকুক না কেন, জনগণ সুশিক্ষিত না হলে কোনো উন্নয়ন পরিখল্পনাই বাস্তবায়িত হতে পারে না। তারা নিজেদের দেশ ও জাতির কোনটা মঙ্গল কোনটা অমঙ্গল তা বুঝে উঠতে পারে না। তাই তারা কোনোদিনই দেশের সুনাগরিক হয়ে জাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে না। বরং তাদের অজ্ঞতা জাতির উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। জাতির উন্নতি সাধন করতে হলে, সবচেয়ে আগে জনগণকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাহলে তারা দেশের সুনাগরিক হয়ে উন্নতির পতে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেথে পারবে। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে শিক্ষাই জাতির উন্নতির প্রধান নিয়ামক। তাই বলা হয় – Education is the backbone of a nation.
শিক্ষাই জাতির উন্নতির পূর্বশর্ত অথবা নিরক্ষরতা দুর্ভাগ্যের প্রসূতি।
ভাব-সম্প্রসারণ: শিক্ষাকে জাতির মেরুন্ড বলা হয়। এ থেকে সহজেই অনুমেয় যে, নিক্ষরতা যে কোনো জাতির জন্যে হুমকিস্বরুপ। শিক্ষাই আলো, নিরক্ষরতা অন্ধকার। শিক্ষা ছাড়া- এ -পৃথিবীতে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। নিরক্ষর ব্যক্তি তার নিরক্ষরতার জন্যে এ- পৃথিবীতে রূপ-রস-গন্ধ, ন্যায়- অন্যায়, লাভ-লোকসান, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ সবকিছু থেকে হয় বঞ্চিত, হয় প্রতারিত। তার জীবনটাই অভিশপ্ত ও ব্যর্থ।
মানবসন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেই যথার্থ মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে যথার্থ মানুষ হতে হলে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। আর এই জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন শিক্ষার। শিক্ষার স্থান মানবজীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে উন্নতি অসম্ভব। পৃথিবীবেতে শিক্ষা বা জ্ঞানই একমাত্র সম্পদ যা জীবনের মতো মূল্যবান। জীবন ছাড়া দেহের যেমন মূল্য নেই, শিক্ষা ছাড়া তেমনি জীবনেরও কোনো মূল্য নেই। যে ব্রক্তি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত তার মনুষ্যজীবন ব্যর্থ। তাকে চরম দুর্ভাগ্যের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হয় । জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত নয় বলে পদে পদে সে অন্ধকার দেখে। চোখ থাকতেও সে অন্ধের মতো বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কহীন জীবনযাপন করে। আধুনিক বিশ্বে অক্ষরহীন ব্যক্তি প্রায় অচল । উন্নত জীচনের সঙ্গে তার পরিচয় থাকে না. উন্নত জীবন সম্পর্কে কোনো ধারণাও সে করতে পারে না। উন্নত পেশা লাভেও সে বঞ্চিত থাকে । দারিদ্রই তাদের চীবনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাাঁড়ায়। দারিদ্র ও দুঃখ-কষ্টে থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথ সে জানে না। এই ধরনের মানুষ শুধু ধুঁকে মরে। নিক্ষরতার অভিশাপ বয়ে বেড়ানোই এদের একমাত্র নিয়তি। শুধু ব্রক্তি জীবনেই নয়, জাতীয় জীবনেও নিরক্ষরতার দুর্ভাগ্য নিয়ে আসে। জাতি যদি নিরক্ষর হয় তবে দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হয় িএবং নানা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার জাতীয় জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। নিরক্ষর জাত আধুনিক উন্নত জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং নানা সমস্যপায় জড়িয়ে পড়ে। বস্তুত ব্যক্তি ও জাতীয় চীবনের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়ার অন্য কোনো উপায় নেই। অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত নিরক্ষর জনগোষ্ঠী তাই জাতির জন্যে বোঝাস্বরুপ। শিক্ষা প্রত্যেক নর নারীর জন্যে ফরজ। শিক্ষা ব্রতীত কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ আজ নিক্ষরতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক তার অগ্নি সন্তান কামাল পাশার নেতৃত্বে মাত্র বিশ বছরে শিক্ষার মান ৮০ ভাগে উন্নীত করেছিল। ইংল্যান্ড,আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর শতকরা ১০০ ভাগ শিক্ষিত। ফলে তার এত উন্নত। আমাদের দেশেও প্রাথমিক শিক্ষা বাধঃ্যতামূরক করা হয়েছে। বর্তমান যুগে নিক্ষরতার মানবজীবনের সবচাইতে চড় অভিশাপ। শিক্ষা -বিবর্জিত মানুষ জাতিকে পিছিয়ে দেয়, জাতিকে পণিত করে ন্যুজ, গর্বহীন, দীপ্তিহীন জনগোষ্ঠীতে। বস্তুত শিক্ষার প্রসারই পারে সব কুসংস্কার, জড়তা দূর করে জাতিকে গতিশীল করতে । তাই জাতীয় জীবেনে তথা একটি উন্নত দেশেরে জন্যে চাই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। এজন্য বর্তমান বিশ্বে শিক্ষাকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত বিবেচনা করা হয়ে হয়ে থাকে।
পৃথিবীতে মূর্খের কোনো স্থান নেই। ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতির জন্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনে পর্যন্ত নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে সবাইকে মুক্ত করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button