শিক্ষা

শিক্ষা কি ? শিক্ষার সংজ্ঞা এবং শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

 শিক্ষা কি?

শিক্ষা মানব জীবনে একটি অপরিহার্য বিষয়। মানুষকৈ মানবীয় গুণের অধিকারী করার জন্যৗ শিক্ষা যে একটা প্রাথমিক এবং প্রয়োজনীয় কৌশলতা প্রত্যেক সমাজ ব্যবস্থাতেই স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিশ্বের জাতিসমূহের একটি বিশেষ জাতির অবস্থান কোথায়, তা চিহ্নিত করা যায় শিক্ষার মাধ্যমে। কারণ, শিক্ষা জাতির একটি কল্যাণকর দিক। মানুষে র জন্মগত সম্ভাবনাকে প্রস্ফুটিত করার জন্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রবাহকে সজাগ রাখার জন্য শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষা দ্বারাই উন্মোচিত হয় একটি জাতির ভবিষ্যতের সিংহদ্বার। শিক্ষািই আনবে ব্যক্তি জীবনে পরিপূর্ণতা। তাই যে কোনো জাতির জন্য শিক্ষা  ব্যক্তিকল্যাণ ও সমাজকল্যানের পথে গড়ে তুলবে নতুন ও আদর্শ সমাজব্যবস্থা।
শিক্ষা কি ? শিক্ষার সংজ্ঞা এবং শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষার সংজ্ঞা:

সবধরণের মানবসমাজে শিক্ষার অন্যৗতম মৌল কর্মকান্ড বলে বিবেচনা করা হয়। এটি সুস্থ সমাজজীবনের চালিকাশক্তি। এর মাধ্যমেই সামাজিক ঐতিহ্য এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম স্থানান্তরিত হয় । শিক্ষা হচ্ছে মানুষের বিদ্যা বুদ্ধির েএরুপ উন্নয়ন, যার পলে সে সত্য, সুন্দর ও শিষ্টতার অনুরাগী হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষার অর্থ হচ্ছে মানুষের দেহ ও মনের সুষম ও পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে তাকে জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধি করতে সমর্থ করে তোলা।
শিক্ষার ইং রেজি Education শব্দটি Latin শব্দ Educare থেকে এসেছে। যার অর্থ লালন পালন করা বা বিকাশ ঘটানো। সে অর্থে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার -অভ্যাসকে পরিশীলিত করাকেই বুঝায়। যার মাধ্যমে সে  ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সার্থকভাবে মোকাবিলা করতে পারে।
শিক্ষা সম্পর্কে সক্রেটিস বলেন, “শিক্ষা হলো মিথ্যার আপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।” অর্থাৎ মিথ্যাক েপরিহার করে সত্যকে প্রতিষ্টা করাই হচ্ছে শিক্ষা।
প্লেটো শিক্ষার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “ By Education I mean that training which is given by suitable habits to the first instincts of value in children’s, When Pleasure and pain are rightly implanted in non-rational souls”. অর্থাৎ শিক্ষা হচ্ছে এমন এক ধরণের প্রশিক্ষণ, যার মাধ্যমে সমাজের সন্তান-সন্ততিরা উপযুক্ত মূলবোধে উদ্ধুদ্ধ হয়  এবং তাদের আচার-আচরণ, অভ্যাস ও সহজাত প্রবৃত্তি পরিশীলিত হয়।

সুশিক্ষা কি?

সুশিক্ষা বলতে সেই শিক্ষাকে বুঝায় যা মানুষ বাস্তব ক্ষেত্রে এর পজিটিভ দিকগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারে। অর্থাৎ আপনি বইয়ে পড়েছেন সত্য কথা বলতে হবে, ভালো কাজ করতে হবে। এগুলো আপনি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ দেখান তাহলেই আপনি সুশিক্ষিত। কারণ আপনার কোনো ভুল শিক্ষা সুশিক্ষা হতে পারে না তাই এখানে পজিটিভ দিকগুলোর কথা বলা হয়েছে।

ইসলামী শিক্ষা কি?

বিজ্ঞান ইসলাম শিক্ষার ‘পার্থিব বিদ্যা” বিষয়ের একটি ঐচ্ছিক পাঠ বিজ্ঞান শিক্ষা। ইসলাম শিক্ষা হলো ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

সাধারণভাবে বলা যায় শিক্ষা হলো মানুষের মানবীয় সুপ্ত বিকাশ সাধনের জন্য বিশেষ এক সুসংবদ্ধ ও সচেতন প্রক্রিয়া। শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে এক অভিন্ন দুটি ধারায় পরিচালিত হয় া কোনো কাজে অগ্রসর হওয়ার জন্য শিক্ষার যে সাধারণ গন্তব্য বা অভিপ্রায় ব্রাপকভাবে বিবৃত থাকে এবং যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ফল লাভ হয়, তা-ই শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আর শিক্ষার উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে একটি লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হবে।
নিম্নে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হলো:
  •  শিক্ষা মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনের একমাত্র উপায়। কারণ নৈতিক চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের জৈবিক চাহিদাগুলো যথাযথভাবে পরিচালনার মাধ্যমে জীবনে সার্থক করে তুলে ।
  • শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তি জীবনের পরিপূর্ণতা বিকাশ, দৈহিক ও মানসিক গুণাবলির সুপ্ত বিকাশ ঘটানো।
  • শিক্ষার সামাজি সাংস্কৃতিক লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সামাজিক আদর্শ ও মূল্যবোধকে বজায় রাখা।
  • শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার গণতান্ত্রিক আদর্শে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা অর্জন করা।
  • শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক বৃত্তিকে সুদৃঢ় করা  এবং সামাজিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করা।
  • সক্রেটিসের মতে, “শিক্ষা লক্ষ্য  ও উদ্দেশ্য হলো নিজেকে জানা।” মানুষের আত্বজ্ঞানই হলো শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
অতএব বলা যায় যে, শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মূলত লক্ষ্য হচ্ছে ব্যাপক যা উদ্দেশ্য হলো সুনির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্টানের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব।

শিক্ষার স্তর:

শিক্ষা ব্যবস্থা একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণের ও ভবিষ্যৎ সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার। কাজেই দেশের কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্তসহ সকল জনগণের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের উপলব্ধি জাগানো, নানাবিধ সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জন এবং তাদের বাঞ্ছিত নতুন সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা  সম্ভারই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তর দুটি প্রবাহে চালিত-
১. সাধারণ শিক্ষা ও
২. ধর্মীয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা
শিক্ষা ব্যবস্থা এ দুটি ধারায় তিনটি স্তরে বিন্যস্ত এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত। স্তরগুলো হলো:-
ক. প্রাথমিক শিক্ষা
খ. মাধ্যমিক শিক্ষা
গ. উচ্চ শিক্ষা।

শিক্ষার ভূমিক ও কার্যাবলি:

শিক্ষা হলো জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে মানবীয় গুনাবলির বিকাশ। মানবীয় গুণাবলির মাধ্যমে শিক্ষা সামাজিক ক্ষেত্রে প্রযোগের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা কখনো শক্তি, কখনো জাতির মে রুদন্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়। েএকটি দেশের উন্নয়নের মাপকাঠি হলো শিক্ষা। যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত সে দেশে তার উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। বস্তুত শিক্ষার মাধ্যমে মানবজীবনে ব্যাক্তি র গুণাবলি তার সুপ্ত বিকাশ ঘটায়। নিম্নে শিক্ষার ভূমিকা ও কার্যবলি তুলে ধরা হলো:-
১. মানবীয় গুণালির বিকাশ সাধন: শিক্ষা একটি মানসিক পক্রিয়া। যার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিভা ও সুপ্ত বিকাশ সাধন করা এবং যা জাতির কাছে একটি গ্রহণযোগ্যতার ম্রধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জনের পথ উন্মুক্ত করে। এ জ্ঞানের পরিপূর্ণ প্রস্ফুটনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি তার সমাজকেও সমৃদ্ধ করে তোলে। তাই শিক্ষার মাধ্যমে মানবীয় গুণাবলি বিকশিত হয়ে থাকে।
২. মনোবৃত্তি সংশোধন: শিক্ষার মাধ্যমে  মানুষের মনোবৃত্তি সংশোধিকত হয়ে থঅকে। কোনো  ব্যাক্তি যদি সমাজের বহির্ভুত কাজ করে কিংবা সামাজিক দ্বন্দের মধ্যে লিপ্ত থাকে সে ক্ষেত্রে শিক্ষার মাধ্যমে তার মনোবৃত্তি সংশোধন করা হয়ে থাকে। এমনকি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যদি দ্বন্দ -কলহ, সংঘাত সৃষ্টি হয় সেই প্রতিষ্ঠান তাদের মনোবৃত্তি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন দিয়ে থাকে। তাছাড়াও পরিবারের মাধ্যমে একটি শিশুর কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস প্রভৃতি বিষয়ে সমাধান দিয়ে থাকে।
৩.প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব: শিক্ষার ভূমিকা ও কার্যাবলির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বিদ্যমান। বিশ্বায়নের এই যুগে মানব সমাজজীবেনে প্রতিযোগিতা রয়েছে সর্বক্ষেত্রে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব  মানসিক ভাবে গড়ে ওঠে। যার ফলে যে কোন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় প্রতিযোগিতার জন্য ভালো ফলাফল করে থাকে।
৪. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক: সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবন ধারণের পদ্ধতি, সাংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষাকে আরো প্রসারিত করা সম্ভব। কারণ সংস্কৃতি মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতে, আইন-কানুন, জ্ঞান, বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। একজন ছাত্র বা ছাত্রী তার পাঠ্যপুস্তকে ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে। তাই বলা যায়, শিক্ষার ভূমিকা ও কার্যাবলির মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫.সমাজিকীকরণের ক্ষেত্রে: শিক্ষার ভূমিক ও কার্যবলি সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবারের পরিই শিশুকে শিক্ষা প্রতিষ্টানের সংস্পর্শে আসতে হয় তািই শিশুর সামাজিকীকরণে ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সুষ্ঠু পরিবারিক পরিবেশে লালিত-পালিত ‍শিশু স্নেহপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ তার  ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশের সুযোগ পায়। স্নেহ-মমতাহীন শাসন আ অনুশাসনে পূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনা বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাড়ায়। শিশুকে শিক্ষা প্রতিষ্টানের নতুন পরিবেশের খাপখাইয়ে এবং নিয়মকানুন মেনে  চলতে হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা:

প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরুপ:
  • মানবিক মূলবোধের বিকাশ ও দেশজ আবহ ও উপাদানভিত্তিক শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা। বিদ্যালয়ে আনন্দময় অনুকুল পরিবেশ তৈরি করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা করা।
  • কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে এক ও অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি সব ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বাধ্যতামূলক করা।
  • মুক্তি যদ্ধের চেতনা উদ্দীপ্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দেশাত্মবোধের বিকাশ ও দেশ গঠনমূলক কাজে তাকে উদ্ধুদ্ধ করা।
  • শিক্ষার্থীিদের মধ্যে কায়িক শ্রমের প্রতি আগ্রহ ও মর্যাদাবোধ এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা সৃষ্টির লক্ষ্যে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
  • প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে আদিবাসীসহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য স্ব-স্ব মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
  • সব ধরণের প্রতিবন্ধীসহ সুযোগ -সুবিধা  বঞ্চিত ছেলেমেয়েদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    Related Articles

    One Comment

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    Back to top button