দর্শন

দর্শন কিভাবে জীবনের সাথে সম্পর্কিত

Table of Contents

  •  দর্শন কীভাবে জীবনের সাথে সম্পর্কিত?জীবনের সাথে দর্শনের সম্পর্ক আলোচনা কর।দর্শন ও জীবনের মধ্যে সম্পর্ক লিখ।দর্শন ও জীবনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের কর
দর্শন কিভাবে জীবনের সাথে সম্পর্কিত

উওরঃ

ভূমিকাঃ

জগৎ ও জীবনের উৎপওি ,প্রকৃতি ও পরিণতি সংক্রান্ত এমনকিছু মৌলিক বিষয় আছে যেগুলো যুগপৎ মানুষের মনে বিষ্ময় ও কৌতুহল সৃষ্টি করে। এ বিস্ময়বোধ ও কৌতূহলের তাগিদেই মানুষ অবলীলা্ত্রমে চালিত হয় ।অজানাকে জানায়,জগৎ সংসার ও মানবজীবনের বিবিধ রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে।ছোট পাখি যেমন ডানা মেলে উড়ে যেতে চায় অনেক দুরে,পরিচিত হতে চায় পাহাড়-পর্বত,লোকালয় তথা সমগ্র বসুন্ধরার সাথে,তেমনি কৌতুহলী মানুষ তার শথ সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে ব্রতী হয় জ্ঞানানাুশীলন ও সত্যানুসন্ধঅনের দুঃসাধ্য কাজে। এটি মানবসওার একটি অলঙ্ঘনীয় আবেদন এবং এ আবেদনে সাড়া দিতে গিয়েই বিভিন্ন দার্শনিকগণ নিমার্ণ করেছেন দর্শনের আঁকাবাঁকা  ইতিহাস । এ প্রক্তিয়ার রচিত হয়েচে মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতির সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য  ঐতিহ্য।

দর্শনের সাথে জীবনের সম্পর্কঃ দর্শন মানেই হল জীবনদর্শন ।মানুষ বু্দ্ধিমান প্রাণিী। বুদ্ধি দিয়ে সে যেমন পরতে বিচার করে,তেমনি নিজেকেও  েমেপে  নিতে পারে। আপন পর জানা, বুঝা নিষ্চয়ই অপ্রয়োজনীয় কিছু নয়। নিয়মের ভিতরে অত্যন্ত ধীর সুস্থিরভাবে কোনকিছুকে বিচার বিবেচনা করে গ্রহণ করার মানে দর্শন। সাধারণভাবে দর্শনকে জীবন থেকে পৃথক করা হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে দর্শনের সাথে জীবনের ঘনিষ্ঠ রয়েছে। দর।শন ও জীবন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিম্মেম এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

১.ব্যবহারিক জীবনে দর্শনঃ দর্শন ও জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।Life become meaningless without philosophy.দর্শন কেবল মানুষেল বৌদ্ধিক তৃপ্তিই দেয়না এটা মানুষের ব্যবহারিক সমস্যার সমাধান করে থাকে জ্ঞানের স্বরূপ নির্ধারণ বা তও্ব জিজ্ঞাসািই শুধু দর্শনের কাজ নয়,বরং চরম আদর্শের ভিওিতে জগৎ ও জীবনের মূল্যাবধারণ করাও দর্শনের কাজ।মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনের সাতে তযে দর্শনের কোন সংযোগ নেই, সে দর্শনকে প্রকৃত দর্শন বলা যায় না । সুতরাং ,দর্শন মানেই জীবনের সাথে সম্পর্কিত।

২.মানবতাবাদী দর্শনঃ দর্শন জগৎ ও জীবনের মূল্যায়ন করে মানুষের কল্যাণের জন্য পরম আদর্শ নিরূপন করে প্রত্যেক সুসভ্য মানুষের  থাকে একটা চরম বা পরম আদর্শ। আর দর্শনকে অস্বীকার করার অর্থ হল পরম আদর্শকে অস্বীকার করা।দৈনন্দিন জীবনে দর্শনই কেবল সর্বজনীন ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সহিষ্ণ ও উদার হওয়ার শিক্ষা দেয়।সাম্প্রতিককালে দর্শনে মানবজীবনের স্বরূপ ,উৎপওি ও মূল্য পরিণাম িইত্যাদি সং ্ত্রান্ত ব্যাখ্যার যে প্রাধান্য দেওয়ার প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে নেওয়া হয় তা নিঃসন্দেহে মহৎ ও প্রশংসনীয়। এজন্য দর্শনকে বলা হয় মানবতাবাদী দর্শন। ইংরেজিতে একে বলা হয়‘Humanism’G

৩.নীতিবিদ্যাঃ মানুষ হচ্ছে বুদ্ধিবৃওিসম্পন্ন জীব। তািই অন্যান্য জীব থেকে কিছুটা হলেও আলাদা।এজন্য মানুষ কতকগুলো বিশেষ গুণে গুণান্তিত হওয়া প্রয়োজন। দর্শন মানুষের মধ্যে কোনটি ভালো আর কোনটা মন্দ তা পার্থক্য করার মত বোধশক্তি প্রদান করে ।আর দর্শনের যে শাখাটি ভালোমন্দ,আদর্শ মূল্যবোধ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে সেটােই হল নীতিবিদ্যা (Ethics)G আর এ নীতিবিদ্যা আমাদের জীবনের চরম লক্ষ্যের অনুসন্ধান চালায়। আমাদের আচার আচরণের মূল্যায়ন করে।

৪.জীবনের প্রকাশ ও পূর্ণতাঃ দর্শন হচ্ছে জীবনের প্রকাশ ও পূর্ণতা। দর্শনের জন্যই নেমে আসে আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠা ও গৌরব। দার্শনিক সিসেরো বলেছেন,‘‘দর্শন আমাদের জীবনের পথ পরিচালক ,সত্যের বন্ধু  এবং অন্যায়ের শএু ।দর্শনের জন্যই আমরা জীবনের পথে উন্নতির দিকে এগুতে পেরেছি।’’দর্শন অন্ধ কুসংস্কার ও সংকীর্ণতাকে দতূরীভূত করে স্বাধীন মনোবৃ িনিয়ে নিরপিক্ষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাশক্তির পরিধি বৃদ্ধি করে। দর্শন মানেই জীবন জিজ্ঞাসা। দর্শন মানেই জীবনদর্শন।

৫.সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় দর্শনঃ সভ্যতার ইতিহাস আলোচনা করলে এটা সহজে আমাদের চোখে পড়ে যে,সভ্য সমাজে দর্শন বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। যুগে ‍যুগে যেসব সমাজব্যবস্থা আদর্শ স্থানীয়,সেখানে আমরা দর্শনের বিরাট প্রয়োগ দেখতে পাই।এক্ষেত্রে আমরা গ্রিক সভ্যতা ,রোম সভ্যতা,রেনেসাঁয় ইতালির কথা বলতে পারি। ‍সুতরাং দেখা যায় যে ,সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠায দর।শন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে  থাকে। 

৬.রাষ্ট্রীয় জীবনে দর্শনঃ রাষ্ট্রীয় জীবনে দর্শনের যে আদর্শ বা ভূমিকা রযেছে তা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র চালনায়,রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দর্শন ও দার্শনিকেদের দাম কম নয়। এজন্য প্লেটো বলেছেন,রাজা হতে হলে তাকে একজন অভিজ্ঞ দার্শনিক হতে হবে। ্‌আধুনিক আমেরিকার শাসনব্যবস্থায় জন লকের অবদান কম নয়।ফারসি বিপ্লবে দার্শনিক রুশো বিপ্লবে মার্কস লেনিন,স্টালিন প্রমুখ দার্শনিকদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

৭.ধর্মীয় জীবনে দর্শনঃ ধর্মীয় জীবনেও দর্শনের মূল্য কম নয়। ধর্মকর্মের মধ্যেই মানুষের আদর্শ জীবন। বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় সমস্যাবলির সমাধানে দর্শন বিশেষভাবে প্রযোজনীয়।বস্তুত দুয়ের উদ্দেশ্য এক সত্যের স্বরূপ উপলদ্ধি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে দর্শন  ধর্মের উপর প্রভাব বিন্তার করেছে। আধুনিক খ্রিষ্টানধর্ম মধ্যযুগের দার্শনিক প্রভাবে প্রভাবাস্তিত। ইসলাম ধর্মের ভিওিপ্রস্তর ও ইসলামি জীবনদর।শন তথা আদর্শ জীবনদর্শন থেকে স্থাপিত হয়েছে। 

৮.সত্য ,সুন্দর ও মঙ্গলের পরমাদর্শ প্রতিষ্ঠায দর্শনঃ  সত্য,সুন্দর ও মঙ্গলের পরমাদর্শ প্রতিষ্ঠায় দর্শন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। দর্শন মানেই হল সত্যের উপলদ্ধি করা,মঙ্গলের আদর।শ প্রতিষ্ঠা করা। দর্শনের সাথে জীবনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে দ্বান্দিক বস্তবাদের মাধ্যমে।দ্বান্দ্বিক বস্তবাদের ‘‘Thesis Anithesis ‘ এবং`Synthesis’এর ধারণা আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে সরাসরি প্রয়োগ করে থাকি। উদাহরণস্বরূপ,পুঁজিবাদের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। পুঁজবাদী সমাজে শ্রমিক-মালিকের উপর নির্ভরশীল। আবরা মালিক শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল ,এটা হচ্ছে ‘Thesis’Gপুঁজিবাদি সমাজে মালিক চায় শ্রমিককে ঠকাতেেআর শ্রমিক মালিকের নিকট তার ন্যায্য পাওনা দাবি করে। ফলে তাদের মধ্যে বিরোধে গড়ে উঠেেএটা হচ্ছ Antithesis।কিন্তু  এদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিন চলেনা । তাদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে একটা সমস্বর সাধন হয়ে থাকে,যাকে বলে Synthesis. সুতরাং দেখঅ যাচ্ছে যে ,দর্শন যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তা জীবনের সাথেত জড়িত।

মূল্যায়ন ঃ প্রকৃত দর্শন মানেই জীবনদর্শন। এদেশের প্রখ্যাত দার্শনিক আবুল হাশিম বলেনে,‘‘দর।শন মানে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে  এমন একটা ধারা ,যা সমানভাবে অন্তর্ভূক্ত করে চিন্তা ও কর্মকে। ‘’বাস্তব জীবনের সাথে যে দর্শনের কোন সম্বদ্ধ নেই তার মূল্যে ও নেই। দর্শনমোদী ব্যওিমাত্রেরিই উচিত চিন্তা ও কর্মর সমন্বর সাধন,মাটির পৃথিবীতে শক্ত পায়ে অবস্থান গ্রহণ। দর্শনের কাজ অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা। আর এজন্যই দর্শনই কেবল বিজ্ঞানের মৌলিক ধারনাগুলোর মূল্যয়ন করে। বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে পূর্ণতা আনে। এ কারণেই বলা হয় বিজ্ঞান আবিষ্কার করে ,আর দর্শন মূল্যায়ন করে। এটম বোমা আবিষ্কার করা বিজ্ঞানের কাজ। কিন্তু এটি মানুষের আশীর্বাদ না অভিশঅপ তার মূল্যায়ন বিজ্ঞান করেনা ,করে দর্শন। কিন্তু আমরা বাস্তব জীবনে দর্শনকে মূল্যঅয়ন করতে চাই না। তাইত বর্তমান পৃথিবীতে মারামারি কাটাকাটি লেগেই আছে। দর্শনের অমোঘ প্রয়োজনের প্রতি ইঙ্গিত করে ব্রাডলি বলেছিলেন ,‘‘বাস্তব দাসত্বে শৃঙ্খলিতে হয়ে মানুষ যেদিন তার স্বকয়ীতা হারিয়ে ফেলবে,যেদিন নবায়ন ও গেুাধূলীর রক্তীম রাগ তার মনকে স্পন্দিত করবে না,যেদিন ধর্মীয় মূল্যবোদের কিংবা অজানা অচেনার প্রতি তার কোন আকর্ষণ থাকবে না, একথায় যেদিন মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে পাশবিক পর্যায়ে অধঃপতিত হয়ে যাবে,সেদনই কেবল সে পরিহার দকরতে পারবে দার্শনিক জ্ঞানানুশীলন ও সত্যানুসন্ধানের মহৎপর্ব।

উপসংহার ঃ পরিশেষে বলা যায় যে ,দর্শনকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বস্তুত দর্শন ও জীবনকে আলাদা করে দেখার ফলেই মানুষের মনে সৃষ্টি হয় দর্শনের প্রতি অবজ্ঞা করার এক অমূলক ধারণা । নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে,দেহতে যেমন মন থেকে আলাদা করা যায় না,তেমনি দর্শনকেও জীবন থেকে আলাদা করা যায় না। সুতরাং ,‘‘Life is philosophy and philosophy is life.”

  • দর্শন ও সাধারণ জ্ঞানের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।দর্শনের সাথে লৌকিক জ্ঞানের সম্পর্ক আলোচনা কর। দর্শন ও সহজ বুদ্ধির মধ্যে সাদৃশ্য লিখ।দর্শন কীভাবে কান্ডজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত
উওরঃ

ভূমিকাঃ

দর্শন হল জগৎ ও জীবনের কতকগুলো মৌলিক প্রশ্নের যেমন- ঈশ্বর ,আত্না,পরলোক,নৈতিকতা,মূল্যবিদ্যা,জ্ঞানবিদ্যা ইত্যিাদির মৌলিক অনুসন্ধান। দর্শন কোন বিশুদ্ধ তাও্বিক অনুসন্ধানের বিষয় নয়। কোন বিমূর্ত চিন্তাভাবনা নয়। এটি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। বরং সমাজজীবনের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে সম্পর্কিত। মূর্ত মানুষের মূর্ত জীবন প্রক্তিয়া এর ভিওি। দর্শন বিনা বিচারে কোনকিছু গ্রহণ করে। দর্শন বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে কোন সমস্যার করে থাকে। দর্শন কোন একটি নিদিষ্ঠ বিভাগের বিশেষ জ্ঞান প্রদান না করে,বরং সামগ্রিক অখন্ড দৃষ্টিকোণ থেকে জগৎ ও জীবনের ব্যাখ্য করে থাকে।

দর্শনঃ গ্রিক দার্শনিক থেলিস(Thales)[৬২৪-৪৪৬] থেকৈ দর্শনের শুরূ হয়েছিল ।তবে ফিলসপি (philosophy)কথাটি প্রথম ্ ব্যবস্থার করেছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব দুশতকের গ্রিক চিন্তাবিদ পিথাগোরাস।থেলেস বলেন,জগতের সমুদয় বস্তু পানি থেকে  সৃষ্টি হয়েছে। আজন্নকাল থেকেই মানুষের জগৎ ও জীবনকে জানার আগ্রহ রয়েছে ।অস্বাভাবিক সম্মুখীন হলেই মানুষ চিন্তা বা বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা চালায়। এ ধরনের প্রচেষ্টাই দার্শনিক সুলভ প্রচেষ্টা।

ব্যুৎপওিগত অর্থে দর্শনঃ দর্শনের ইংরেজি প্রতিশব্দ `philosophy’শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘philos’ এবং Sophia’থেকে উদ্ভূত হয়েছে  `philos’ শব্দের অর্থ Loving বাংলায় অনুরাগ এবং `Sophia’শব্দের অর্থ `Knowledge’বাংলায় ‘জ্ঞান’।সুতরাং  `philosophy’ (Love of wisdom)দর্শন মূলত সংস্কৃত শব্দ  এবং এর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে বস্তুর প্রকৃত সওা বা তও্বদর্শন। ‘দৃশ’ ধাতু থেকেই দর্শন শব্দের উৎপওি। সুতরাং ব্যুৎপওিগত অর্থে দর্শন বলতে বুঝায়,চাক্ষুষভাবে প্রত্যেক্ষ করাকে। প্রকৃতপক্ষে দর্শন কোন কিছুকে চাক্ষুষভঅবে না বুঝিয়ে যুক্তির আলোকে কোন কিছু দেখাকে বুঝায়।

সহজ বুদ্ধির স্বরূপঃ সহজ বুদ্ধি বলতে আমরা মোটামুটি কান্ডজ্ঞান বা কাজ চালানো জ্ঞানকে বুঝে থাকি। সাধারণ প্রাধিকার বা কর্তৃত্ব,প্রথা বা ধারা কমবেশি সামঞ্জস্যহীন চিন্তা  ইত্যাদি হচ্ছে সহজ বুদ্ধির উৎস। Ordinarily common sensi means good sense or practical sagacity.অর্থাৎ লৌকিক জ্ঞান অর্থেও কান্ডজ্ঞান কথাটি ব্যবহৃত হয়ে  থাকে। দার্শনিক কানিং হামও কান্ডজ্ঞান বা সহজ বুদ্ধি শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর মতে,‘‘যে মতবাদ সমষ্টি কোন মানবগোষ্ঠী বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে গ্রহণ করে তাকে কান্ডজ্ঞান বা লৌকিক জ্ঞান বলে।’’

কান্ডজ্ঞান সাধারণ লোকের কাছে বহুল প্রচলিত এবং সাধারণ লোক এ ধরনের জ্ঞানের মাধ্যমেই  দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধান করে থােকে। এ জ্ঞান যেহেতু লোকমুখে শ্রুত এবং গৃহীত মতের সমষ্ঠি ছাড়া কিছুই নয়,সে কারণে এ জ্ঞঅনের পেছনে কোন যুক্তি চিন্তন বা বিচার বিশ্লেষণের কোন ভূমিকা নেই। এ কারণেই এ ধরণের জ্ঞা দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। দার্শনিক বিশ্লেষণেই সহজ বুদ্ধির  এই ভুল-বিভ্রান্তি থেকে আমাদের রক্ষা করে। 

দর্শন ও সহজ বুদ্ধির সম্পর্ক বা সাদৃশ্যঃ দর্শন ও সহজ বুদ্ধি বা কান্ডজ্ঞানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে যা নিম্মে উল্লেখ করা হলঃ

১.দর্শন জীবন ও জগতের রহস্য উন্নেচন করে সত্যকে উদঘাটন করতে চায়। কান্ডজ্ঞানও জীবন ও জগতের রহস্য উন্নেচন করে সত্যকে উদঘাটন করতে চায়। সুতরাং উভয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

২.দর্শন বলতে আমরা বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাকে বুঝৈ থাকি। আবার সহজ বুদ্ধি বলতে আমরা বিচার বিবেচনা বিযুক্ত মতকে বুঝে থাকি। সুতরাং উভয়ই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ। 

৩.দর্শন যেমন জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করে,তেমনি সহজ বুদ্ধি ও জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করে। তাই এদিক থেকে উভয়ের মদ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

৪.সহজ বুদ্ধির অসংযত ও অনিশ্চিত জ্ঞানের উপর পরো্ক্ষভাবে দর।শন নির্ভরশীল। সহজ বুদ্ধিল জ্ঞানের সমালোচনা থেকেই দর্শনের যাএ শুরু হয়। এদিক থেকে সহক বুদ্ধিকে দার্শনিক জ্ঞানের প্রাথমিক পর্ব বলে  অভিহিত করা যায়। তাই উভয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

৫.দর্শনের উদ্ভবের ক্ষেত্রে যেমন সংশয়ের প্রভাব দেখা যায,তেমনি সহজ বুদ্ধির উদ্ভবের ক্ষেত্রেও সংশয়ের প্রভঅব দেখঅ যায়।

সুতরাং উভয়েই পরস্পর পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

উপসংহারঃ উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে ,সহজ বুদ্ধির জ্ঞান বা কান্ডজ্ঞান মানুষের বুদ্ধগত অভিযানের প্রারম্ভ েএবং দর্শন মানুষের বুদ্ধিগত অভিযানের সর্বোচ্চ স্তর । দর্শন হল সহজ বুদ্ধির জ্ঞান,বৈজ্ঞানিক সাধনার ফল,ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার আলোকে জীবন জগতের সামগ্রিক ব্যাখ্যা ও মূল্যবোধের সর্বোচ্চ প্রকাশ। সুতরাং দর্শন ও সহজ বুদ্ধির জ্ঞানের সম্পর্ক অনস্বিকার্য।

  • দর্শন ও বিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।দর্শন ও বিজ্ঞানের মধ্যে অমিল খুঁজে বের কর।
উওরঃ
ভূমিকাঃ
সৃষ্টির উষালগ্নে ধরণীর বুকে যখন মানুষের পদার্পণ ঘটে তখন মানুষ ধরণীর অনন্ত লীলা বৈচিএ্য দেখে বেস্ময়ে বিমুগ্ধ হয়ে পড়ে। প্রকৃতির অসীম ব্যাপকতা ও অনন্ত সৌন্দর্য দেখে মানুষের মনে কেওতুহলে সৃষ্টি হয়। আর এ কৌতূহল থেকেই কতকগুলো চিরন্তন জজ্ঞাসার সৃষ্টি হয়্। ‍বুদ্দিবৃওিসম্পন্ন মানুষ জানতে চায় এ বিশাল জগতের কি কোন সৃষ্টিকর্তা আছে?তিনি কেন জগৎ সৃষ্টি করলেণ?মানুষৈর উৎপওি কোথা থেকে ইত্যাদি। বুদ্ধিবৃওিসম্পন্ন মানুষ এসব প্রশ্নের উওর পাওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে বুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তার সাহায্য জগৎ ও জীবনের সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয়ের উওর অনুসন্ধান থেকেই উৎপওি হয়েচে দর্শনের।
দর্শনঃ জগৎ ও জীবনকে জানার আগ্রহ মানুষের আজন্নকাল থেকেই রয়েছে। কোন অস্বাভাবিক সমস্যার সম্মুখিন হলেই আমরা চিন্তা  বা বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা চালাই। আর এ ধরনের প্রচেষ্টাই দার্শনিক সুলভ্ প্রচেষ্টা ।দর্শন বিচার বিশ্লেষণ ব্যতীত কোনকিছু গ্রহন করে না। বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টাই হচ্ছে দর্শন।
দর্শন ও বিজ্ঞানের সম্পর্কঃ দর্শন ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক বিরোধপূর্ণ। তাই উভয়ের পার্থক্য আলোচনার আলো বিজ্ঞান কিছু জানা দরকার।
বিজ্ঞানঃ বিজ্ঞান কথাটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে‘science’ যা ল্যাটিন শব্দ`Scientia-Sciens’থেকে উদ্বুত এর ব্যুৎপওিগত অর্থ হল জ্ঞঅন বা জ্ঞানবিদ্যা। সুতরাং বিজ্ঞান বলতে আমরা এমন এক বিদ্যাকে বুঝি যা প্রকৃতির বিভিন্ন বিভাগের উপর পরীক্ষঅ নিরীক্ষা চালিয়ে সুশৃঙ্খল ,সুনিদিষ্ট,সুসামঞ্জস্য ও নির্ভূল জ্ঞান আহরণ করে।
দর্শন ও বিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য বা বৈসাদৃশ্যঃ দর্শন ও বিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক বা সাদৃশ্য থাকা সও্বে এর কিছু পার্থব্য বা বৈসাদৃশ্য রয়েছে যা নিম্মে আলোচনা করা হলঃ
১.বিজ্ঞান প্রকৃতির একটি বিশেষ বিভাগ নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু  সমগ্র বিশ্বজগতই দর্শনের আলোচ্য বিষয়বস্তু। 
২.বিজ্ঞান তার আলোচ্য বিষয়ের ব্যাখ্যার জন্য কতকগুলো স্বতসিদ্ধ সিদ্ধান্তকে সত্য বলে বিনাবিচারে স্বীকার করে নেয়। কিন্তু দর্শন পূর্ব থেকে কোন নীতি বা সত্যকে বিনাবিচারে স্বীকার করে নেয় না।
৩.বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গ খন্ড খন্ড বিচ্ছিন্ন পক্ষান্তরে দর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি অখন্ড ও সামগ্রিক।
৪.বিজ্ঞানের নির্ণীত বিষয় মূর্ত,কিন্তু দর্শনের বিষয় হল অমূর্ত
৫.দর্শনের বুৎপওিগত  অর্থ হল জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ কিন্তু বিজ্ঞানের বুৎপওিগত অর্থ হল জ্ঞান বা জ্ঞানবিদ্যা। 
৬.বিজ্ঞানের পদ্ধতি হল আরোহনমূলক আর দর্শনের পদ্ধতি অবরোাহমূলক।
৭.বিজ্ঞঅন বস্তুর পরিমাণগত দিক নিয়ে আলোচনা করে। আর দর্শন বস্তুর পরিমানগত ও জ্ঞানগত দিক নিয়ে আলোচনা করে।
৮.দর্শন বস্তুর অর্থ,মূল্য ও গুণ নিয়ে আলোচনা করে আর বিজ্ঞান শুধূ সত্য আবিষ্কার করে।
৯.বিজ্ঞান এ  বিশ্বজগতের আদি কারণ নিয়ে আলোচনা করে না ।কিন্তু দর্শন এগুলো নিয়ে আলোচনা করে।
১০.বিজ্ঞান শুধূ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও বাহ্যরূপ নিয়ে আলোচনা করে ।কিন্তু দর্শন অন্তর সওা নিয়ে আলোচনা করে।
১১.বিজ্ঞানের সিদ্ধঅন্তকে পরীক্ষঅ-নিরিক্ষা করা যায়।কিন্তু দর্শন কতকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে পরীক্ষ-নিরীক্ষঅ করা যায় না।
১২.ধর্ম,নৈতিকতা,উপাসনা,জীবনের আদর্শ,শিল্পকলা,সাহিত্য ,মঙ্গল-অমঙ্গলের নিয়ে দর্শন আলোচনা করে কিন্তু বিজ্ঞঅন এগুলো নিয়ে আলোচনা করে না ।
১৩.দর্শন শুধূ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিষয়ের পাশাপাশি বিষয় নিয়েও আলোচনা করে।
১৪.বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্য বিষয়ভিওিক তােই সর্বজনগ্রাহ্য ।কিন্তু দার্শনিক ব্যাখ্যা ব্যাপক তাই সর্বজনগ্রাহ্য নয়্।
১৫.বিজ্ঞান সৃষ্টিকর্তর অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করেনা । পক্ষান্তরে দর্শন তা আলোচনা করে।
১৬.বিজ্ঞঅন শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে তাদের বিশ্লেষন করে না ।অপরদিকে দর্শন শব্দ ও ভাষঅকে ও যৌক্তিকভঅবে বিশ্লেষণ করে।
১৭.বিজ্ঞান পরকালে বিশ্বাস করেনা ।কিন্তু দর্শন পরকালে মোটামুটিভাবে বিশ্বাস করে।
১৮.বিজ্ঞান পরম মূল্যর অনুশীলন করেনা ,কিন্তু দর্শন পরম মূল্যের অনুসন্দান করে। 
উপসংহারঃ উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে ,দর্শন ও বিজ্ঞান পরস্পরের পরিপূরক। এদের মধ্যে পার্থক্য থাকা সও্বেও উভয়ই একই পথের যাএী উভয়ের সম্পর্ক নির্ণয় করতে গিয়ে দার্শনিক ওয়েবার বলেন,“the science without philosophy are an aggregate without unity,a body without soul,philosophy without the science is a soul without a body ,different in nothing from poerty and its drem.”সুতরাং বলা যায় দর্শন ও বিজ্ঞান এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে আবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button