শিক্ষা

তন্ত্র কাকে বলে? তন্ত্র ও যোগসাধনা

তন্ত্র কাকে বলে?: তিনশতক থেকে জৈন, বৌদ্ধ ধর্মে দেবপূজার প্রসার ঘটতে থাকে। খ্রি. ছয় শতকের শেষে এবং সাত শতকের প্রথম ভাগে মহাযানপন্থী বৌদ্ধরাও শক্তিদেবতার পূজা দিত শুরু করে। শিবলিঙ্গ ও বৌদ্দ স্তূপের মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষিত হল। শিবের মাথায় স্থান পেল বোধসত্ত্ব। আপ শতকে তিব্বত হয়ে আমদানী হল চীনা তান্ত্রিকত। নয় শতকে তন্ত্রমন্ত্র ও যোযপন্থারর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটে। বৌদ্ধ ধর্মের রূপান্তর ঘটল নানা যানের মধ্য দিয়ে। মন্ত্রযানে শন্ত্রই ধর্মের মূল উৎস। মন্ত্র, মুদ্রা ও মণ্ডলক্রিয়া যোগে মৈথুনের মাধ্যমে বোধিসত্ত্ব লাভের শিক্ষা দান করতে লাগল বজ্রযানপন্থীরা।

এককথায় তন্ত্র বলতে বোঝায় – কোনো একটি নির্দিষ্ট শরীরবৃত্তীয় কাজ সমাপ্ত করার জন্য দেহের কতগুলো অঙ্গ একত্রিত হয়ে যে অঙ্গ সমষ্টি গঠন করে তাকে তন্ত্র বলে।

তন্ত্র কাকে বলে? তন্ত্র ও যোগসাধনা

যোগ ও তান্ত্রিক সাধনাঃ

বামাচারী এবং কামাচার বর্জিত। গোরক্ষনাথ কামাচার বর্জিত বা ব্রহ্মচর্য সাধনার প্রবর্তক্ এই গোরক্ষনাথবাদীরাই নাথপন্থী। আর হাড়িপা বা জালন্ধরী পাদের অনুসারীরা বামাচারী । প্রথম সম্প্রদায় অবধূত যোগী । শেষের সম্প্রদায় কাপালিক যোগী। নাথপন্থীরা পরিনাশে শৈবদের সাথে অভিন্ন হয়ে ওঠেন । আর পা পন্থীরাও শৈব-শাক্ত তান্ত্রিকরূপে ব্রাহ্মণ সমাজভুক্ত হয়ে পড়ো । আসলে এদর সাধনা আজো প্রচ্ছন্ন ও বিকৃত বৌদ্ধ মতভিত্তিক,তথা আদি সাংখ্য যোগ-তন্ত্র ধারার ধারক। পরিণামে সবাই আত্মজ্ঞান, শিবত্ব, অমরত্ব ও মোক্ষকামী। বাংলাদেশের প্রাচীন ও অনার্য শিব ভোট চীনাদের প্রভাবে ‘নাথ হয়ে আবার ব্রাহ্মণ  প্রাবল্যে শিব -হর-মহাদেব-রুদ্র রূপে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত হন। তাই আদিম, প্রাচীন ও অর্বাচীন তথা ্ দ্রাবিড়, অস্ট্রিক, মোঙ্গল ও আর্য মননপ্রসূত সব দ্বান্দি্বক গুণ নিয়ে শিব আজো জীবন্ত উপাস্য দেবতা।
দেহে অবস্থিত চৈতন্যই আত্মা। এ আত্মা জগৎ-কারণ পরমাত্মারই অংম খণ্ডকে স্বরূপে জানলে অখণ্ডকেও জানা যায়। এ জন্যে দেহের কর্তৃত্ব  বা নিয়ন্ত্রণাধিকার চাই। এই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব শ্বাস-প্রশ্বাসরূপে পবন আয়ত্বে  এলে। আর এ জ্যন্য বিন্দুধারণ, দেহ বা ভূতশুদ্ধি, ত্রকাল ‍দৃষ্টি, ভাণ্ডে ব্রহ্মাণ্ড ও জীবে ব্রহ্মদর্শন, আত্মজ্ঞান, ইচ্ছা সুখ, ইচ্ছা মৃত্যু প্রভৃতির সামর্থ অর্জন প্রয়োজন।

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button