প্রবন্ধ রচনা

চরিত্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা | চরিত্র কি | – ‍snigdhasokal.com

Table of Contents

 চরিত্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা 

চরিত্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা | চরিত্র কি | - ‍snigdhasokal.com

 ভূমিকা :

চরিএ মানুষের অমূল্য সম্পদ ।চরিএ মানুষের ভূষণ ;যা দ্বারা মানুষ নিজেকে অলঙ্কৃত করতে পারে ।চরিএ এমন এক সম্পদ যার মাধ্যমে মানুষ সব গুণের অধিকারী হয়ে উঠতে পারে ।মানুষে মধ্যে সেই উওম যার চরিএ সবেচেয়ে ভালো ।কোনো ব্যক্তির আচরণ ও আদর্শের উৎকর্ষবাচক গুণ বোঝাতে চরিএ শব্দটি ব্যবহুত হয় ।চরিএ বলতে আমরা বুঝি কথাবার্তায় ,কাজ-কর্মে এবং চিন্তুা-ভাবনায় একটি পবিএ ভাব ।মানুষকে তা ন্যায়পথে ,সৎপথে পরিচালিত করে ।মানুষের সর্বোৎকৃষ্ট গুনাবলির মধ্যে চরিএ অন্যতম ।এর মধ্যে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নিহিত ।চরিএই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক ।তাই বিখ্যাত ইংরেজ লেখক স্যামুয়া্যাল স্মাইলস তাঁর `Character’ প্রবন্ধে বলেছেন –

“The Crown and glory of life is Character .’’

চরিত্রের উপাদান বা বৈশিষ্ট্য :

সততা ,সত্যনিষ্ঠা ,প্রেম ,পরোপপকারিতা ,দায়িত্ববোধ ,শৃঙ্খলা ,অধ্যবসায় ও কর্তব্যপালন হলো চরিত্রের মৌলিক উপাদান ।এগুলো মানুষ যখন সহজে নিজের মধ্যে বিকশিত করে তোরে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়ে যায় ।ফলে ,দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক আচরণেও উওমচরিত্রের বৈশিষ্ট্যাবলি প্রকাশ পেতে থাকে ।আর এ পযায়ে গিয়ে  ব্যক্তি তার চরিএকে একটি সম্পদ হিসেবে আবিষ্কার করে ।সর্বোপরি ব্যক্তির চারিত্রিক গুণাবলি বিকাশের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন ।-

১.মানবিক গুণাবলির সমাহার হিসেবে ধৈয ,সাহস ,আনুগত্য ,সততা ,সৌজন্য ,নির্ভরযোগ্যতা ,কৃতজ্ঞতাবোধ ,সহজ অমায়িকতা ইত্যাদি ;

২.শৃঙ্খলা,সময়ানুবর্তিত ,সহিষ্ণুতা ,শিষ্টাচার ইত্যাদি সামগ্রিক আচার –আচরণে –অভ্যাস ;

৩.দেশপ্রেম ,অসাম্প্রদায়িকতা ,জাতীয়তাবোধ ,আন্তর্জাতিক সৌভ্রাতৃত্ব মানবপ্রেম ইত্যাদি সংগঠিত ভাবাবেগ ;

৪.হিংসা ,বিদ্বেষ ,কুটিলতা ইত্যাদি মানসিকতা পরিহার এবং বদ অভ্যাস বা প্রবৃওির দমন;

৫.ন্যাযবিচার ,মানবকল্যাণ ,পরহিতব্রত ইত্যাদি মানবিক গুণাবলিকে জীবনের চাকাশক্তি হিসেব গ্রহণ ।

সচ্চরিত্রের লক্ষণ :

নামমাএ নৈতিকতা বা ন্যায়নিষ্ঠােই চরিএ নয় ,চরিত্রের মধ্যে সমন্বয় ঘটবে মানুষের যাবতীয় মানবীয় গুণাবলি ও আদর্শের ।চরিএবান ব্যক্তি জাগতিক মায়া –মোহ ও লোভগ-লালসার বন্ধনকে ছিন্ন করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকেন ।যিনি চরিএবান তিনি কখনো সত্য থেকে বিচ্যুত হন না ,অন্যায়কে প্রশ্রয় দেনা না,ক্রেধে কিংবা আনন্দে আত্মহারা হন না ,গর্বে গর্বিত হন না ,কারো সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেন না ।তিনি সত্যবাদী,জিতেন্দ্রিয় ,ভক্তি ও ন্যায়পরায়ন হয়ে থাকেন এবং মানুষকে ভালোবাসার চোখে দেখেন ।তাই প্রতিটি মানুষের সাধনা হওয়া উচিত চরিএ গঠনের সাধনা ।

সচ্চরিত্রের ফল :

চরিত্রের মাধ্যমেই ঘোষিত হয় জীবনের গৌরব ।চরিএ দিয়ে জীবনের যে গৌরবময় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তা আর কিছুতেই সম্ভব নয় বলে সবার ওপরে চরিত্রের সুমহান মযাদা স্বীকৃত ।যার পরশে জীবন ঐশ্বযমন্ডিত হয় এবং যার বদৌলতে মানুষ জনসমাজে শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাএ হিসেবে আদৃত হয়ে থাকে ,তার মূলে রয়েছে উওম চরিএ ।যিনি সচ্চরিত্রের অধিকারী তিনি সমাজের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার ও প্রজ্বলিত দীপ শিখা ।তাঁর মধ্যে যাবতীয় মানবীয় গুণাবলির বিকাশ ঘটে বলে চরিএবান মানুষ জাতির সম্পদ ।

চরিএ গঠনের  সময় ও ‍উপায় :

চরিএ গঠনের কাজ শিশুকাল থেকে মরণের পূর্ব পযন্ত চলতে থাক ।তাই চরিত্রের ওপর পরিবার ,সমাজ ও পারিপাশ্বিক সামাজিক বিধি-ব্যবস্থা প্রভাব বিস্তার করে ।

চরিএ গঠনে পরিবারের ভূমিকা :

শিশুকাল ও শৈশবকালই হচ্ছে চরিএ গঠনের উৎকৃষ্ট সময় ।তাই বাসগৃহকে চরিএ গঠনের উপযুক্ত স্থানে হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।শিশুকে সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহিত করা হলে তাতে সৃজনী প্রতিভ বিকশি হয় ।প্রত্যেক শিশূই নিষ্পাপ হয়ে জন্মগ্রহণ করে ।শিশুরা স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয় ।তাই শৈশবে শিশুর কোমল হৃদয়ে যা প্রবিষ্ট হয় তা চিরস্থায়ী রূপ পরিগ্রহ করে ।তাই শিশুর পরিবার যদি সৎ আদর্শবান হয় তবে সেও সৎ ও আদর্শবান হতে বাধ্য ।শিশুর জীবনে মহৎ গুণের সমাবেশ ঘটাতে হলে চাই সৎ সঙ্গ ।আজকাল শিশুর ভালো-মন্দ চরিএ গঠনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখছে টেলিভিশনে ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের মতো গণমাধ্যম ।স্যাটেলাইটের বিভিন্ন চ্যানেলে যেসব অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় তার মধ্যে এমন অনেক অনুষ্ঠান রয়েছে যা শিশুদের জন্যে অনুপযোগী ।তিই অভিভাবককে এদিকে লক্ষ রাখতে হবে ।

চরিএ গঠনে সামাজিক প্রভাব :

মাতা-পিতা ,আত্নীয় –স্বজন থেকে আরম্ভ করে পাড়া –প্রতিবেশীর পরিবেশের মধ্যে দিয়েই শিশুর চরিএ গঠিত হয় ।শিক্ষাজীবনে বা বিদ্যালয়ে বা সমবয়স্কদের সঙ্গে খেলাধুলঅয় এবং সঙ্গ –প্রভঅবে শিশুরা আসল চরিএরূফ পরিগ্রহ করে ।সেজন্যে অভিভাবক ও শিক্ষকদের লক্ষ রাখা উচিত লেখাপড়ার ভেতর দিয়ে শিশুদের চরিএ গঠন হচ্চে কিনা ।

চরিএ গঠনে পারিপাশ্বিক অবস্থার প্রভাব ও সঙ্গ নির্বাচন :

মানবচরিএ গঠনে পরিপাশ্বের গুরুত্ব অপরিসীম ।সে যেরুফ পারিপার্শিক অবস্থার মধ্যে বাস করে ,সাধারণত তার চরিএ সেভাবেই গঠিত হয় ।সেজন্যে সে যাতে পরিবারের  বািইরে কুসংসর্গে মিশতে না পারে অথবা কৃকাযে লিপ্ত হতে না পারে ,সেদিকেও অভিভাবকদের লক্ষ রাখা উচিত ।মানুষ সামাজিক জীভ ।সমাজবদ্ধ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তাকে অন্যের সান্নিধ্যে গ্রহন করতে হয় ,বন্ধূ নির্বাচন করতে হয় ।শেখ সাদীর (রহ)বিখ্যাত উক্তি রয়েছে ,‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস ,অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ,। একচন উওম বন্ধূ যেমন জীবনের গতি পান্টে দিতে পারে ,তেমনি একজন অসৎ বন্ধু জীবনকে পৌঁছে দিতে পারে ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমায় ।এ জন্যে প্রবাদ রয়েছে , ‘সঙ্গদোষে লোহা ভাসে’। পরশমণির ছোঁয়ার লোহা যেমন সোনা হয়ে ওঠে তেমনি সচ্চিরিত্রের প্রভাবে মানুষের পশুপ্রবৃওি ঘুচে যায় ,জন্ম নেয় সৎ ,সুন্দর ও মহৎ জীবনের আকাঙ্ক্ষা ।আবার সঙ্গদোয়ে মানুষ তার চরিত্রকে হারিয়ে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায় ।এ জগতে যত লোকের অধঃপতন হয়েছে অসৎ সংসর্গই এর অন্যতম কারণ ।মানুষ সতর্ক থাকলেও কুসংসর্গে পড়ে নিজের অজ্ঞাতে পাপের পথে পরিচালিত হয় ।প্রবাদ রয়েছে ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ।’তাই সঙ্গ নির্বাচনে আামাদের সতর্ক হতে হবে ।বন্ধূ নির্বাচনে তিনটি গুণ থাকা চাই :

১.তাকে হতে হবে জ্ঞানী ,

২.চরিএ হতে হবে সুন্দর ও মাধুযময় ,

৩.হতে হবে নেককার ,পুণ্যবান ।

চরিএ গঠনে স্বীয় সাধনা :

চরিএলাভের প্রধঅন উপায় স্বীয়-সাধনা ।চরিএ সাধনার ধন ।বহুদিনের সাধনার বলে তা অর্জন ও রক্ষা করতে হয় ।সংসার প্রলোভনময় ।পাপের হাজার প্রলোভন মানুষকে বিপথে চালিত করতে সততাই সচেষ্ট ।আপনার আত্মিক শক্তির বলে সেই সব প্রলোবনকে দমন করে আপনাকে সত্যের পথে অবিচল রাখতে হবে ।এর জন্যে সর্বা্গ্রে দরকার নিজের শক্তিতে বলে সেই সব প্রলোভনকে জয় করার মতো মনোবল যার নেই ,সে কখনো চরিএরূপ অমূল্য ধনের অধিকারী হতে পারে না ।সে মানবসমাজে অধম ।

চরিএ গঠনে মহামানবদের উদাহরণ : 

পৃথিবীতে আজ যাঁরা স্বীয় কর্মবলে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন বা সমাজের মহাকল্যাণ সাধন করে গিয়েছেন ,তাঁদের জীবন –কাহিনি পড়লে দেখতে পা্ওয়া যায় ,তাঁরা সকলেই ছিলেন চরিএবান এবং আদর্শ মহাপুরুষ ।এরুপ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সঃ),হযরত ঈসা(আ),হাকি মোহাম্মদ মহসীন ,স্যার সলিমূল্লাহ ,মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী ,সোহরাওয়াদী ,এ .কে.ফজলুল হক ,মহাত্মা গান্ধী ,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ মহাপুরুষ চরিএবলে জগতে অসাধ্য সাধন করে গিয়েছেন ।অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ।তাঁদের অদৃম্য কর্মশক্তিতে মানবজাতির মহাকল্যাণ সাধিত হয়েছৈ ।বস্তুতপক্ষে চরিত্রের মতো কোনো মহৎগুন পৃথিবীতে নেই ।যিনি চরিএবান তিনি মানবশ্রেষ্ট ,সমগ্র মানবজাতির তিনি ভূষণস্বরূপ ।তিনি সর্বজাতির কার্ডারি ।তাঁদের জীবনের মহিমা স্মরণ করেই কবি লিখেছেন-

‘এমন জীবন হবে করিতে গঠন

মরণ হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন ।’

চরিএহীন ব্যক্তি ঘৃণার পাএ : 

মানবের সম্পদ একমাএ চরিএ ।চরিএহীন লোক পশুর চেয়েও অধম ।স্বাস্থ্য ,অর্থ এবঙ বিদ্যাকে আমরা মানবজীবনের অপরিহায উপাদান হিসেবে বিবেচনা করি ।কিন্তু জীবনক্ষেত্রে এগুলোর যতই অবদান থাক না কেন ,এককভাবে এগুলোর কোনোটিই মানুষকে সর্বোওম মানুষে পরিণত করতে সক্ষম নয় ,যদি না সে সচ্চরিএ না হয় ।কারণ সমৃদ্ধিময় জীভনের জন্যে চরিএ প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে ।মানুষ তার দৈহিক আরো আকর্ষণীয় ও মধূময় করতে সুন্দর সুন্দর পোশাক ও অলঙ্কার ব্যবহার করে এক অনুপম সৌন্দযের বিকাশ সাধন করে ,কিন্তু সে যদি চরিএবান না হয় তা হলে এ সবই বৃথা ।

চরিএ গঠনের গুরুত্ব :

‘তরুলতা সহজেই তরুলতা ,পশুপাখি সহজেই পশুপাখি ,কিন্তু মানুষ প্রাণপণ চেষ্টায় তবে মানুষ।’ তাই এ সাধনা বা প্রয়াসের প্রথম পদক্ষেপ হলো তার চরিএ গঠনের সাধনা ।চরিএ গঠনের গুরুত্ব এতই ব্যাপক যে ,জীবনের যাবতীয় সফলতার পূর্বশর্ত হিসেবে এবে বিবেচনা করা হয়েছে । ব্যক্তি জীবনে সুখী ,সফল ,আত্নপ্রত্যয়ী এবং জয়ী হওয়ার জন্য উওম চরিত্রের জীবনের মুকুট বলা হয় ।চরিত্রের শক্তিতে ও প্রভাবে মানুষ হতে পারে বিশ্ববরেণ্য ও চিরস্মরণীয় ।তাই চরিত্রের বিকাশ সাধনই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত ।

উপসংহার :

চরিত্রের কাছে পার্থিব সম্পদ ও বিও অতি নগণ্য ।প্রাচুযের বিনেময়ে চরিএকে কেনা যায় না ।ধনসম্পওির অভাবে মানুষ অতৃপ্ত থাকতে পারে ,কিন্তু যার চরিএ প্রকৃত অর্থে সচ্চরিত্রর গুণ লাভ করেছে সে চিরপূর্ণ ও চিরতৃপ্ত মানুষ ।ব্লাকি বলেছেন-‘অর্থের প্রয়োজন নেই ,পদমযাদার প্রয়োজন নেই ,প্রয়োজন আছে শূধূ চরিত্রের ,যা মানুষের জীবনে সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয় ।নশ্বর এই পৃথিবীতে বিশ্বস্রষ্টার সৃষ্টির সার্থকতা রয়েছে চরিএবান মানুষের ভলো কাজের মধ্যে ।চরিএ মাধূয মানুষকে অনন্যতা দান করে ।চরিএবান ব্যক্তি সমাজের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার ।মানবজীবনে চরিত্রের মতো বড় অলঙ্কার আর নেই ।এ প্রসঙ্গে ইংরেজি প্রবাদটি প্রাণিধানযোগ্য ,

‘‘When money is lost nothing is lost;

When health is lost ,something is lost;/But if Character is lost,evetything is lost.’’

চরিত্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা 

ভূমিকা:

মানুষের আচার-আচরণ ও আদর্শের শ্রেয় ও উৎকর্ষবাচক গুণকেই চরিএ বলা হয় ।এটি মানব-ব্যক্তিত্বের এমন একটি শক্তি যা সততা ,ন্যায়-নিষ্ঠা ,নীতিপরায়ণতা ও নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ।সচ্চরিএবান সত্যকথা ও সত্যচিন্তায় বিশ্বাসী ,সকল অন্যায় –নিষ্ঠরতার উর্ধ্ধে তার অবস্থান ।অন্যদিকে,দুশ্চরিএবানের অস্তই হলো মিথ্যাচার ,মন্দ কাজ ,নিষ্ঠুরতা ইত্যাদি ।মানবীয় গুণাবলির মধ্যে চরিএ অন্যতম ।এর মধ্যেই নিহিত থাকে মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

চরিএ কী? :

ব্যক্তি বিশেষের গুণাবলিই চরিএ ।এটি ইংরেজি ‘Character’শব্দের প্রতিশব্দ ।বাংলঅয় (চলা)ধাতু থেকে শব্দটি গঠিত হয়েছে ।অর্থাৎ চরিএ শব্দের সাথে গতির সম্পর্ক নির্দেশতি হয়েছে ।মানুষের জীবনধারার গতির সাথেই চরিএ-বৈশিষ্ঠ্য ফুটে ওঠে ।‘চরিএ’শব্দটি ইতিবাচক অর্থেই ব্যবহৃত হয় ।প্রাত্যাহিক জীবনে মানুষের চিন্তায় ,কর্মে ,আচার –আচরণে নৈতিকতা তথা উৎকর্ষবাচক গুণের প্রকাশকেই চরিএ মানবজীবনে সৌন্দয বৃদ্ধি করে ।

চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :

চরিত্রের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়  ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক গুণ দিয়ে ।নিম্ন উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্র্য চিহিৃত করা হলো:১.সত্য কথা বলা ;২.সত্য চিন্তা করা; ৩.সহৃদয়তা ,সংবেদনশীলতা ,ন্যায়পরায়ণতা ,ক্ষমাশীলতা ,কর্তব্যপরায়ণতা ,মানবিকতা ইত্যাদি ;৪.হিংসা –বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা বর্জন ;৫.অন্তরশক্তির দৃঢ়তা ; ৬.অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীনতা ;৭.গুরুজনে ভক্তি;৮.আত্নসংযম ,নিরহংকার ,মানবপ্রেম ;৯.সামাজিক রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা;১০.অধ্যবসায় ,বিনয়,ধৈয ,সৌজন্যে ,ভ্রাতৃত্ব ;১১.দেশপ্রেম,অসাম্প্রদায়িকতা,জাতীয়তাবোধ ।

এসব বৈশিষ্ট্যের আলোকে ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন হয় বলে চরিএবান ব্যক্তি দেশও জাতির সম্পদ ।এজন্যই মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) বলেছেন ,তোমাদের মধ্যে সচ্চরিএবান ব্যক্তিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ।

চরিএ গঠনের গুরুত্ব :

গঠনগত দিক থেকে চরিত্রের দুটি দিক –১ .সচ্চরিএ  ২. দুশ্চরিএ ।ইতিবাচক গুণের সমন্বয়ে গঠিত হয় সচ্চরিএ আর নেতিবাচক গুণ তথা পশুত্ব নিয়ে গঠিত হয় দুশ্চরিএ ।মানবজীবনে চরিএ গঠনের গুরুত্ব স্বল্প কথায় অপ্রকাশ্য ।বিদ্যার চেয়ে চরিত্রের মূল্যে অধিকতর ।কেননা দুশ্চরিত্রের বিদ্বান সমাজের বা দেশের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণেই করে বেশি ।অন্যদিকে ,শুধূ চরিএবলেই মানুষ হতে পারে বিশ্ববরেণ্য ।অহিংস মনোভাব নিয়েই দেশ,জাতির কল্যাণ সম্ভব হয় । আর তা একমাএ সচ্চরিএবানের পক্ষেই সম্ভব ।তাই চরিএ গঠনের গুরুত্ব অপরিসীম ।এক্ষেত্রে একটা প্রচলিত সুভাষণ স্মরণযোগ্য :

অমরত্বের সুধা পান না করেও মানুষ অমর হতে পারে কেবল চরিত্রের গুণে ।’

চরিএ গঠনে পরিবারের ভূমিকা :

শিশুর চরিএ গঠনে পরিবারই উপযুক্ত স্থান ।শিশুরা অনুকরণপ্রিয় ;শিশুর সুসংহত ব্যক্তিত্বে বিকাশের জন্য পরিবারের সবাইকে সচ্চরিত্রের গুণগুলো চর্চা করতে হবে ।বাট্রান্ড রাসেল শিশুর চরিএ কতগুলো বিষয়ের উল্লেখ করেছেন ;

(সত্য কথা ও সত্য চিন্তায় অভ্যস্ত করতে )

(স্নেহ ও সমবেদনার শিক্ষা দিতে হবে )—নৈতিক গুণাবলির অধিকরী –(স্বার্থপরতা কীভাবে ক্ষতিকর তা বুঝিয়ে দিতে হবে )

(অন্যায় –অত্যাচারের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে শিশুকে জানত দিতে হবে ।)

 

খুব কাছ থেকে শিশুকে নৈতিক চরিত্রের শিক্ষাদান পরিবারের পক্ষেই সম্ভব ।সৎসঙ্গ শিশুর প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ।সকল নিষ্ঠুরতা থেকে শিশুকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে ।সৃষ্টিশীল কাজে শিশুকে উৎসাহিত করতে হবে ।এভাবেই চরিএ বিকাশে পরিবার পালন করে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।তবে শিশুর চরিএ গঠনে শিক্ষক –শিক্ষিকাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ।

চরিএ গঠনে সমাজের ভুমিকা :

চরিএ গঠনে সমাজের ভূমিকা ও অনস্বীকায ।বিশেষত শৈশবে চরিএ বিকাশে সমাজ –পরিমন্ডল পালন করে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা ।পাড়া-প্রতিবেশী ,সমবয়স্ক সঙ্গী –সাথি সবার সাথে মানবজীবন অতিবাহিত হয় ।তাই এদের সবার প্রভাবেই গড়ে ওঠে ব্যক্তি চরিএ ।ফলে সামাজিক জীবনচার যেন সৎ ও সুন্দর গুণাবলির সমন্বয়ে গঠিত হয় তার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে সবাইকেক ।

শিক্ষার মাধ্যমে চরিএ গঠন :

শিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জনেই সহায়তা করে না ,উন্নত চরিএ গঠনেও সাহায্য করে ।উন্নত চরিএ গঠনের জন্য প্রাণশক্তি ,সাহস ,সংবেদনশীলতা ও বুদ্ধির সমন্বয় প্রয়েঅজন ।শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির সধ্যে এ বৈশিষ্ঠ্যগুলোর সঞ্চার  করা হয় ।পাঠ-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর মনে সাবলীলভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগানো হয় এবং জীবনীশক্তির সঞ্চার করা হয় ।জীবনের প্রতি জাগ্রত আগ্রহ ব্যক্তির সুস্থ মানসিকতা গঠনে সহায়তা করে ।আবার শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি আত্নবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ।ফলে নিজের বিচার বিবেচনা দ্বারা আচরণবিধি থৈরি করে ।ব্যক্তি অর্জন করে উদার দৃষ্টিভঙ্গি ।চিন্তার ক্ষেত্রে েএ দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিকে ভালো –মন্দ ,ন্যায় –অন্যায় সম্পর্কে সচেতন করে তোলে ।এভাবেই শিক্ষা ব্যক্তির উন্নত গঠনে সহায়তা করে ।চরিএহীনতার কুফল :মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ চরিএ ।চরিএহীন ব্যক্তির মনে আশ্রয় ন্য়ে অশ্রভ চিন্তা ।আত্নচিন্তায় বিভোর ব্যক্তি লোভ-লালসার মও হয়ে পড়ে ।যেকোনো পাপ কাজ করতে তার অন্তর কাঁপে না ।তারা সমাজ ও দেশের কলঙ্ক ।সবার ঘৃণােই তাদের পাথেয় ।যতই বিওশালী হোক না কেন চরিএহনি মানুষ কখনোই কারও শ্রদ্ধঅ –ভালোবাসা পায় না ।তাদের জীবন পশুর জীবনের চেয়েও নিকৃষ্ট ।

মহৎ চরিত্রের দৃষ্টান্ত :

চরিএশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তিগণ অমরত্ব নিয়ে মানব মনে বেঁচে থাকে চিরকাল ।অন্যায় ,অসত্য ও পাপের বিরুদ্ধে এসব মহৎ ব্যক্তির দৃঢ় অবস্থান অক্ষয় ঔজ্জ্বল্য নিয়ে আলোকিত করে সবাইকে ।তারা ধনসম্পদ সমৃদ্ধ না হরেও গৌবরবৌশ্বযে মহীয়ান ।এমনই চরিত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টন্ত হযরত মুহম্মদ (স) ,যীশুখ্রিষ্ট ,গৌতমবুদ্ধ ,বিদ্যাসাগর ,রাজা রামমোহন রায় ,মহাত্না গান্ধী ,মওলানা ভাসানী ,হাজী মুহম্মদ মুহসীন প্রমুখ ।এরা সবাই মানবব্রতী,দেশব্রতী ,উন্নত ও মহৎ চরিত্রে অধিকারী ।

উপসংহার : 

দিকে দিকে আজ অমঙ্গলের প্রভাব পরিলক্ষিত ।মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা যেন বিলুপ্ত ।বিশ্বব্যাপী আজ বেড়েছে ভোগ করার প্রবণতা এবং কমেছে মূল্যবোধ ।এমতাবস্থায় চরিত্রের নবজাগরণ ।একান্ত প্রয়োজন ।কেননা চরিএবান নাগরিকই অনৈতিকতার অন্ধকার থেকে জাতীয় জীবনকে রক্ষা করতে পারবে ।চরিত্রের মহিমায় মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে মূল্যবোধ ।কবির কণ্ঠে মহৎ চরিএ গঠনের বাণী শোনা যায় ;

‘এমন জীবন হবে করিতে গঠন

মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন ।’

 

 চরিত্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা

উপস্থাপনা :

When money is lost ,nothing is lost

When health is nost,something is lost

But When Character is lost ,everything is lost .

এখন চরিএ বিনষ্ট হয় ,তখন মানুষের সবকিছুই নষ্ট হয়ে যায় ।এ বক্তব্য একট নির্মম সত্য ।চরিএ হচ্ছে কতিপয় গুণাবলির সমাহার ।কল্যাণ ও সত্যের প্রতি সুতীব্র অনুরাগ ,সত্য ও কল্যাণকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ,প্রেম –প্রীতি ,স্নেহ-মমতা –দয়ার প্রকাশ,সৎবুদ্ধি ও সুপারামর্শ দান ,সৎসঙ্গে বাস ,অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও গুরুজনকে মান্য ,মিথ্যা ও অন্যায়কে অস্বীকার ,মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ,

ফলভারাবনত বৃক্ষের ন্যায় অহংকারহীন ,হিংসাদ্বেষহীন সংযেত জীবনযাপনই হচ্ছে চরিএ গৌরব ।যিনি এ চরিত্রে গৌরবে গৌরবান্বিত তিনিই চরিএবান ।চরিত্রের এ উপাদানসমূহ যিনি যত বেশি পরিমাণে ধারণ করতে পারেন ,তাঁর চিন্তায় ও কর্মে তিনি তত মহৎ ।ড. মুহম্মদ এনামুল হকের সিদ্ধান্ত ‘‘বাক্য,কাযে এবং চিন্তায় সামঞ্জস্য রক্ষিত হইলে মানুষের মধ্যে যে একটি পবিএতার ভাব ফুটিয়ে উঠে,তাহাকে চরিএ বলিয়া অভিহিত করা যায় ।তারই সাহায্যে মানুষ সত্য পথে ,ন্যায় পথে ,ধর্ম পথে অবিচলিত থাকতে পারে ।এই বিশেষ বিশেষ গুণ যাহার মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় ,তাহাকে আমরা সচ্চরিএ অথবা চরিএবান আখ্যা দিয়া থাকি ।’’

 চরিএ গঠনে পরিবারের প্রভাব :

‘চর’(চলা)ধাতু থেকে চরিএ শব্দটি গঠিত হয়েছে ।এর মাঝে রয়েছে একটি গতির সংকেত ।রবীন্দ্রনাথ এ প্রসঙ্গে বলেছেন ,চরিএ শব্দের অ্থই এই ,যাতে করে চলঅ যায় ।এই চলা হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনে সুন্দর করে চলা ,সমাজ জীবনকে সুন্দর করে চালানো ।ব্যক্তি যেমন তাঁর চরিএ মাহাত্নো নিজেকে যথাযথভাবে চারিত করেন ,বিকশি করেন ,তেমনি চালিত করেন তার পরিবারকে তার সমাজকে ।মূলত ব্যক্তি তার চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমে সমাজ দেহকে সুন্দর ও সুষ্ঠুরূপে সজ্জিত করেন ।চরিএ হচ্ছে গতিময় ও আদর্শাভিমুখী জীবনযাপন ।পরিবার ও সমাজের পরিবেশে গঠিত হয় মানুষের চরিএ ।চরিএ গঠনে প্রথম ও প্রধান ভূমিকা পালন করে পরিবার ।প্রধানত মা বাবা ভাই-বোন ও আত্নীয় –স্বজনের আচার –আচরণ ,বিশ্বাস ,মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিত্ব শৈশবেই সে মা –বাবা ও ভাই –বোনের মেজাজ ও আচার –আচরণকে অনুসরণ করে ।এজন্যই মনীষী বি.রাসেল মনে করেন ,মানব জীবনে শিক্ষার প্রকৃষ্ট সময় হচ্ছে এক থেকে পাঁচ বছর পযন্ত ।এ সময় সে যা শিখবে পরবর্তি জীবনে তা চরিএ গঠনে সহায়ক হবে ।

সচ্চরিত্রের লক্ষণ :

সত্যনিষ্ঠা ,গুরুজনের প্রতি ভক্তি ,,ন্যায়পরায়ণতা ,আত্নসয়যম ইত্যাদি গুণ সচ্চরিত্রের লক্ষণ ।যিনি চরিএবান তিনি কখনো সত্য থেকে বিচ্যুত হন না ,অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না ,ক্রোধে আত্নহারা হন না ,গর্বে গর্বিত হন না ,কারো সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেন না ।তিনি সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয় ও ভক্তিপরায়ণ হয়ে থাকেন এবং মানুষকে ভঅলোবাসেন হৃদয় দিয়ে ।

চরিএ গঠনের উপায় :

গৃহই চরিএ গঠনের উপযুক্ত স্থান ।সামাজিক ও পারিবারিক সূত্রে তথা মাতা-পিতা,আত্নীয় –স্বজন থেকে আরম্ভ করে পাড়া-প্রতিবেশীর পরিবেশের মধ্যে দিয়েই শিশুর চরিএ গঠিত হয় ।পাঠ্যাভ্যাসকালে বিদ্যালয়ের সমবয়স্কদের সারথ খেলাধুলায় এবং সঙ্গ প্রভাবে শিশুর আসল চরিএ রূপ পরিগ্রহ করে ।সে জন্যে অভিভাবক ও শিক্ষকদের লক্ষ রাখা উচিত ,লেখাপড়ার ভেতর দিয়ে শিশুদের চরিএ কিরূপে গড়ে উঠেচে ।পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরেও মানব চরিএ গড়ে ওঠে ।একটি মানব শিশু যেরূপ পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে বাস করে ,সাধারণত তার চরিএ সেভাবেই গঠিত হয় ।তাই সে যাতে পরিবারের বািইরে কুসংশ্রবে মিশতে বা কুকাযে লিপ্ত হতে না পারে ,সেদিকে ও অভিভাবকদের লক্ষ করা উচিত ।

এসব উপায় ব্যতীত চরিএ লাভের প্রধঅন পদ্ধতি সাধনা ।চরিএ সাধনার ধন ।বহুদিনের সাধনা বলে তা অর্জন ও রক্ষা করতে হয় সংসার প্রলোভনময় ।পাপের হাজারো প্রলোভন মানুষকে বিপথে চালিত করতে সততই সচেষ্ট ।আপনার আত্নিক শক্তি বলে সেসব প্রলোভনকে দমন করে আপনাকে সত্যের পথে অবিচলিত রাখতেত হয় ।এজন্যে সর্বাগ্রে দরকার আপন শক্তিতে দৃঢ় আস্থা স্থাপন ।যে দুর্বল সে সচ্চরিএ লাভের উপযোগী নয় ।যে বলহীন ,নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে,সংসারের যাবতীয় প্রলোভয় জয় করার মতো যার মনোবল নেই ,সে কখনো সচ্চরিএরুপ অমূল্য ধনের অধিকারী হতে পারে না ।সে মানব সমাজে অধম ।

জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত :

পৃথিবীতে আজ যারা স্বীয় কর্মবলে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন বা কর্মধারায় মানুষের মহাকল্যাণ সাধন করেছেন ,তাঁদের জীবন –কাহিনী পড়লে দেখতে পাওয়া যায় ,তাঁরা সকলেই ছিলেন চরিএবান আদর্শ মানুষ ।হযরত মুহাস্মদ (স),হযরত ঈসা (আ),হাজী মুহাম্মদ মহসিন ,স্যার সৈয়দ আহমদ,মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ,স্যার সলিমুল্লাহ,মুহাম্মদ আলী ও শওকত আলী ,সোহরাওয়ার্দী ,এ.কে.ফজলুল হক প্রমুখ মহাপুরুষগণ চরিএ বলে জগতে অসাধ্য সাধন করে গেছেন ।তাঁরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ।তােই প্রত্যেক ব্যক্তির চরেত্রেই একটা ব্যক্তিত্ব লক্ষা করা যায় ।তাঁরা তাঁদের অনমনীয় ব্যক্তিত্বের প্রভাবে টারপাশের চেহারা পযন্ত পরিবর্তন করে দেন ।তাঁদের অদম্য কর্মশক্তিতে যুগে যুগে মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়েছে ।

চরিএহীন ব্যক্তি ঘৃণার পাত্র :

চরিএহীন ব্যক্তি পশুর চেয়েও অধম ।প্রবৃওিবলে চালিত ,বিবেচনাশক্তিহীন পশুরা যেমন ইন্দ্রিযের তৃপ্তি সাধনকেই সারজ্ঞান করে ,তেমনি চরিএহীন ব্যক্তি প্রবৃওির বশে চালিত হওয়াকেই বিদ্যা –বুদ্ধি ,ধন-সম্পদ ইত্যাদি তার যতই থাকুক না কেন ,কিছুতেই সে মানুষের মন জয় করতে পারে না ;কোণো উপায়েই সে তাদের আকর্ষণ করতে পারে না ।চরিএহীনকে লোকে যুগপৎ ভয় ও ঘৃণা করে; চরিএবানকে সম্মান করে ।মনুষ্য সমাজের চরিএ বলেই লোক অমরতা লাভ করে ।প্রতিভাবান ব্যক্তিও যদি চরিএবান না হয় ,তাহলে তারা মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধঅ অর্জন করতে পারেনা ।যেমন বলা হয় –দুর্জন বিদ্বান   হলেও পরিত্যাজ্য ।

উপসংহার :

চরিএ এক অমূল্য রতন ।চরিএবান ব্যক্তির তজীবনে উন্নতি অবশ্যম্ভাবী ।শত বাধা-বিপওি ,দুঃখ ,কষ্ট আর দরিদ্রতার ভেতরও যারা নিজেদের চরিএকে সৎ ও সুন্দর রাখে ,তারাই জীবনে খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করে ।মৃত্যুর পরও তারা স্মরণীয় –বরণীয় হয় ।সুতরাং সু্ন্দর ও সৎ চরিত্রের কোনো তুলনা নেই ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button