শিক্ষা

উপন্যাস কাকে বলে? উপন্যাসের শ্রেণিকরণ -snigdhasokal.com

 উপন্যাস কাকে বলে?: সাহিত্যের  আর আর শাখার মধ্যে নির্মিত ও স্বরূপে উপন্যাস শিল্প সর্বাপেক্ষা জটিল। সময় ও সমাজের বিক্ষুব্ধ তরঙ্গবৈচিত্রের গর্ভে উপন্যাসের জন্ম। আস্থ সামাজি বিন্যাসের বহুধা বিভক্তিতে সৃষ্ট মানবের আত্মজিজ্ঞাসা ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় উপন্যাস তার স্বভাবধর্মে পেয়েছে শতধা  জটিণতা। নবজাগরণের বৈতন্যে লালিত শিল্প বিপ্ল বের দ্বন্দ্ব – সংঘাতের চিহ্ন সারা শরীরে জড়িয়ে উপন্যাস নামক শিল্প মাধ্যমটি জন্মলগ্ন থেকেই অগ্নিপরীক্ষার  মুখোমুখি  । তাই সমাজভেদে কালভেদে উপন্যাসের আকৃততি ও প্রকৃতি হয়েছে ভিন্ন।
হেমিংওয়ের ‘ওল্ডম্যান  এন্ড দ্যা সী’ এবং লিও টলস্টয়ের ‘ওয়া এন্ড পীস’ দু্ই ভিন্ন স্বভাবের  সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও উভয়ই উপন্যাসের মর্যাদা পেয়েছে। তেমনি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুন্ডলা’ , ’রাজসিংহ’, রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা, শরৎচন্দ্রের ‘শেষ প্রশ্ন’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ’কাঁদো নদী কাঁদো’,  রবীন্দ্রনাথের ’শেষের কবিতা’-আয়তন , চরিত্রায়ন এবং বিষয় বিচারে ভিন্নধর্মী হলেও এর সবগুলোই উপন্যাস শিল্প হিসেবে নন্দিত ও বিশ্লেষিত।
উপন্যাস কাকে বলে? উপন্যাসের শ্রেণিকরণ -snigdhasokal.com

আরো পড়ুনঃ সনেট কাকে বলে?

Table of Contents

উপন্যাস কাকে বলে?

উত্তরঃ যে বর্ণনাত্মক গদ্য রচনায় মানুষের  বাস্তব জীবনকথা লেখকের জীবনস্পর্কিত ‍ৃদষ্টি ভঙ্গি সম্বয়ে অভিব্যক্ত হয়, তাকে উপন্যাস বলে। উপন্যাসের  ইংরোজি সমার্থক শব্দ Novel, ল্যাটিন শব্দ Novellus থেকে জাত , যার অর্থ নতুন গল্প বা উপাক্যান। সাধারণভাবে লেখকের দর্শনানুভুতি কোনো বাস্তব বা কাল্পনিকতার আশ্রয়ে বা বর্ণনামূলক শিল্পকর্মে  রূপায়িত হলেই তা উপন্যাসের মর্যাদা পায়। অর্থাৎ উপন্যাস কোনো ঐতিহাসিক, কাল্পনিক বা বাস্তব কাহিনী যা চরিত্র বিশ্লেষণ, ঘটনা সংস্থাপন, সংলাপকুশলতা বা লেখকের জীবন উপলব্ধির ইঙ্গিতবাহী।
মানবজীবনে অসংখ্য ঘটনা ঘটে । কোনো ঘটনা যৌক্তিক শৃঙ্খলাযুক্ত আবার কোনোটার মধ্যে তা থাকে না। এ জন্যেই উপণ্রাস বিধৃত ঘটনাংশের মধ্যে যৌক্তিক শৃঙ্খলা  থাকতে হবে। লেখকের ‍ দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্র ও ঘটনার সমন্বয়ে একটি উপন্যাস হয়ে ্ ‍ুঠবে যথার্থ। 
তবে উইলিয়াম হেনরি হার্ডসন উপন্যাসের শরীর গঠনের জন্য অপরিহার্য ছয়টি উপাদনের উল্লেখ করেছেন – 
  • প্লট
  • চরিত্র
  • ভাষা
  • স্থান  ও কালৌচিত্য
  • স্টাইল বা লিখনশৈলি 
  • লেখকের জীবনদর্শন
অর্থাৎ উপন্যাসের মধ্যে কাহিনী থাকবে, কাহিনীর আশ্রয়ে হবে চরিত্রে স্ফুর্তি, চরিত্রের সজীবতা দান করবে ভাষা। কাহিনী -চরিতে ভাষার যথার্থ ফুটে উঠবে স্থানকাল পরিবেশ বর্ণনা প্রক্রিয়ার মধ্যে। ্এগুলো আবার নির্ভর করবে লেখকের লিখনশৈলীর শক্তিমত্তার উপর। সর্বোপরি লেখকের জীবন সম্পর্কে একটা সামগ্রিক দর্শন সবকিছুর সমন্বয়ী  যোগর থেকে প্রকটিত হয়ে উঠবে।

উপন্যাসের শ্রেণিবিভাগ

সর্বগ্রাসী মানব মনীষার সকল শাখা দর্শন মনস্তত্ত্ব সাহিত্য  শিল্পের কবিত্ব নাট্যরস কাহিনী কোনোকিছু থেকেই ঋণ গ্রহণে উপন্যাসের আপত্তি নেই। উপন্যাসের বিষয়বস্তু নির্বাচনে বাধ্যবাধকতা নেই । জীবন সত্রের সামগ্রিক শর্ত পূরণের লক্ষ্যে সমাজ ও সমাজচারী মানুষের জীবনকর্মের শৈল্পিক পলেপন উপন্যাসে মুখ্য হয়ে ওঠে।
সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মানবজীবনের চালচিত্র ধারণ ও বিশ্লেষণের আধার হিসেবে উপন্যাসের প্রকারভেদ অনেক। লেখকের বর্ণনাভঙ্গির প্রেক্ষিতে উপন্যাসকে শিথিল প্লট ও জটিল প্লট  এ দু ভাগে ভাগ করা হয়েছে। শিথিল  প্লটের উপন্যাসে কাহিনী র দিকনিষ্ঠা বা তটবন্ধন কিছুেই থাকে না। জটিল ট্লটের উপন্যাসে কাহিনী র ক্রমোন্নত ঠাস বুনন লক্ষ করা পাওয়া যায় । শিথিল প্লটগুলো  সাধারণত চত্রিপ্রধান হয়ে থাকে।
জীবনের বৈজিত্র্য সীমাহীন । ফলে উপন্যাস সাহিত্য পরস্পর এতই সার্থক হয়ে উঠেছে ।

উপজীব্যের তারতম্য অনুসারে উপন্যাসকে নিম্নোক্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছ

  • ঐতিহাসিক
  • সামাজিক
  • গীতিধর্মী
  • পৌরাণিক
  • আঞ্চলিক
  • আত্মজৈবনিক,
  • রোমঞ্চধর্মী
  • রাজনৈতিক
  • ডিটেকটিভ
প্রভৃতি ভা েগ ভাগ করা যায়।

 দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে উপন্যাসকে নিম্নোক্ত শ্রেণিতে ভাগ করা যায় । যথাঃ-

  • হাস্যরসাত্মক
  • পত্রোপন্যাস
  • লোমহর্ষক
  • বীরত্বব্যঞ্জক
  • মনস্তাত্ত্বিক
  • চেতনাপ্রবাহধর্মী
ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভাজন করা হয়েছে।

১. ঐতিহাসিক উপন্যাসঃ

ইতিহাসের কোনো চরিত্র বা ঘটনাকে অবলম্বন করে রচিত উপন্যাসকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে। ঐতিহাসিক উপন্যাস র্মলত ইতিহাস ও উপণ্যাসের সমষ্টি। ইতিহাসের ঘটনা যেবাবে ধারাবাহিকভাবে  বর্ণিত হয়, উপন্যাসে  সেভাবে বর্ণিত হয় না। ঐতিহাসিক উপন্যাসে ইতিহাসের ঘটনা ও  চরিত্রের সাতে অনৈতিহাসিক ঘটনা ও চরিত্র থাকতে পারে তবে সেক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অংশের প্রাধান্য তাকে। এক্ষেত্রে ইতিহাসের ‍ মূল ঘটনা ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রসমূহ যতদূর সম্ভব অবিকৃত রাখাই  কর্তব্র। ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে তৎকালীন সমাজের আচার -আচরণ, সামাজিক ও গার্হস্থ্য জীবনের তথা গোটা সাংস্কৃতিক পরিবেশ উপস্থাপিত হবে। ইতিহাসের ঘটনাবলির সাথে যোগসূত্র অক্ষুণ্ন রেখে আমাদের সমাজ ও জীবনের নৈন্দিন হাসি-কান্না-সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহের বিচিত্র চিত্র অঙ্ক করাই এ উপন্যাসের কাজ।
এতিহাসিক উপন্যাসের সমস্ত গতিপথে ইতহিাসের পদচিহ্ন থাকবে সুস্পষ্ট। আর এই পদক্ষেপের অনুসল করে ই বহ্নিমুখ পত্রঙ্গর মতো প্রত্যেকটি চরিত্র আপনা ভাগ্য রচনা করবে। ঐতিহাসিক উপন্যাসে বাস্তব জীবনের বিচিত্র ঘটনার উপরে কল্পনার লং মিলিয়ে ইতাসের সত্যনিষ্ঠার সাথে তার সমন্বয় সাধন করবে। সর্বোপরি সমগ্র উপন্যাস পাঠে পাঠক মন ঐতিহাসিক রস সিক্ত ও তৃপ্ত হবে।
জাতী ইতিহাসের গৌরব, জয়-পরাজয়, আনন্দ-বেদনা, ঐতিহ্যের উৎস নতুন তাৎপর্য ঐতিহাসিক উপন্যাসে উপস্থাপিত। ঐতিহাসিক উপন্যাস তাই বলে কেবল  ইতিহাস নয়। ইতিহাসে কেবল সংঘটিত ঘটনার বিবরণ ও মূল্যায়ণ থাকে কিন্তু  ঐতিহাসিক উপন্যাসে ইতিহাসের ঘটনা ও চরিত্র অবলম্বন করে ঔপন্যাসিক তা জীববোধকে প্রকাশ করে। লিও টলস্টয়ের’ ওয়ার অ্যান্ড পীস’, বঙ্কিমচন্দ্রের ‘ রাজসিংহ’, রবীন্দ্রনাথের ‘রাজর্ষি’, বৌ- ঠাকুরাণীর হাট’, আবু জাফর শামসুদ্দীনের ‘ ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান’ প্রভৃতি ঐতিহাসিক উপন্যাসের উদাহরণ।
আরো পড়ুনঃ কারক কাকে বলে?

২. সামাজিক উপন্যাসঃ

পবিবার, দেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম, দর্শন অর্থাৎ সমাজে বসবাসকারী মানুষের ক্রিয়াকর্মকে অবলম্বন করে যে উপন্যাস রচিত হয় তাকে সামাজিক উপন্যাস বলে। এককথায়, সমাজ জীবনের ঘটন নিয়ে রচিউপন্যাসই সামাজিক উপন্যাস । এ ধরণের উপন্যাসে সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনাচরণ ও সামাজিক হিসেবে ব্যক্তি মানুষের জীবনাচরণ উপস্থাপিত হয়ে থাকে।সামাজিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলেরসুখ-দুঃখের, জাীবনদর্শনের বিভিন্ন কাহিনী নিয়ে গড়ে ওঠা সামাজিক উপন্যাসে লেখক সমাজচিত্রকে যথাযথভাবে চিত্রিত করেন।
বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’, রবীন্দ্রনাথের ‘যোগাযোগ’, শরৎচন্দ্রের ‘ পল্লীসমাজ’, বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ সাামাজিক উপন্যাসের দৃষ্টান্ত।

৩. উদ্দেশ্যমূলক উপন্যাসঃ

কোনো সামাজিক উপন্যাসে কোনো সমস্যা বা মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠলে তাকে উদ্দেশ্যমূলক উপন্যাস বলে। এ ধরণের উপন্যাসে সমাজের কোনো বিশেষ সমস্যা বা বিষয় নিয়ে ঔপন্যাসিক তার নিজস্ব চিন্তাভাবনার অনুকূলে চরিত্র নির্মাণ করে তাকে মুখপাত্র করে ঔপন্যাসিকের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করেন।  যেমনঃ শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবি’, রবীন্দ্রনাতের ‘চার অধ্যায়’  ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ‘ রায়নন্দিনী’ প্রভৃতি উদ্দেশ্যমূলক উপন্যাস।

৪. মন্তত্ত্বমূলক উপন্যাসঃ

যে উপন্যাসের আখ্যানভাগে সামাজিক কাহিনী বা সমাজের বিশেষ কোনো দিক অপেক্ষা চরিত্র বিশ্লেষণ মুখ্য হয়ে ওঠে, তাকে মনস্তত্ত্বমূলক উপন্যাস বলে। এ ধরণের উপন্যাসে কাহিনী বর্ণনার গুরুত্বের  চেয়ে বিভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা বিশ্লেষণ প্রাধান্র লাভ করে। অর্থাৎ ঔপন্যাসিক এ ক্ষেত্রে সমাজ বিশ্লেষণ মনোযোগ না দিয়ে চরিত্রের আতের কথ টেনে বে করেন এবং  মানব চরিত্রের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যার আত্মনিয়োগ করেন। যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’।

৫. কাব্যধর্মী উপন্যাসঃ

উপন্যাসে আ্খ্যাভাগ এবং চরিত্র সৃষ্টির নৈপুণ্য অপেক্ষা লেখকের কবি দৃষ্টি যে উপন্যাসের জীবনদর্শনকে স্নিগ্ধ ও মধুর করে তোলে,তাকে কাব্যধর্মী উপন্যাস বলে ।অর্থাৎ এক্ষেত্রে লেখকের ঔপন্যাসিক সত্তার চেয়ে কবিসত্তা প্রাধান্য পায়, লেখকে বোধাবোধগুলো িছেঁকে তুলতে সক্ষম হয়। এই শ্রেণির উপন্যাসে পরিত্রচিত্রণের তুলনায় বর্ণনা প্রাধান্য পায়। তাছাড়া কথার টিঠে কথা দিয়ে উপন্যাসট হয়ে ওঠে একধরণের কথামালা। কাব্যধর্মী উপন্যাসে জীবনের দ্বন্দ্ব প্রকাশের চেয়ে প্রকৃতি  ও প্রতিবেশের অনুষঙ্গে চরিত্রের মানসদশা প্রকাশের  উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এ ধরণের উপন্যাসে বেশ কিছুটা বাস্তবতা বর্জিত । তবুও  ঔপন্যাসিকের বাগবহুল্য , তরঙ্গায়িত আবেগ-উচ্ছ্বাস বিশেষকাব্যসৌন্দর্যে রঞ্জিত ও ব্যঞ্জিত । বঙ্কিমচন্দ্রের  ‘কপালকুন্ডলা’ , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ প্রভৃতি কাব্যধর্মী উপন্যাসের উদাহরণ।

৬. রহস্য/ডিকটিভ উপন্যাসঃ

যেসব উপন্যাসে খুন,  আত্মহত্যা, খানাতল্লাশ, কড়া প্রহরার মধ্যে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা, গোয়েন্দা পুলেশের কৃতিত্বপূর্ণ কলাকৌশল- অর্থাৎ যে উপন্যাসে  বিশেষ একটি লোমহর্ষক ঘটনাকে কেন্দ্র কের গুল্মোর মতো কাহিনীর জট পাকাতেথাকে িএবং লেখক জাল গোটানোর ম দু’এক টানেই গ্রন্থিমোচন করেন। ঘটনার অপ্রত্যাশিত বিন্যাসেও বিস্ময়কর লোমহর্ষক অদ্ভুত কাহিনী ‍সৃষ্টি এ শ্রেণির উপণ্রাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ডিটেকটিভ উপন্যাসে সমাজজীবনের কোনো গভীর তত্ত্ব বা তথ্যালোচিত হয় না, জীবনের অন্ধকার দিকই এত েউদ্ভাসিত হয়। অনেকের ধারণা যে,, ডিটেকটিভ উপন্যাসে কূটবুদ্ধি প্রখর হয়, কোনো  বিষয়ে অনুসন্ধানে পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয়। কৈশোর  ও প্রথম তারুণ্য এ ধরণের উপন্যাস পাঠেবিশেষ রস পায়।
বাংলা সাহিত্যে পাঁচকড়ি দে, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, শশধর দ্ত্ত, নীহারঞ্জন গুপ্ত, সত্যজিত রায়, কাজী  আনোয়ার হোসেন প্রমূখ ডিটেকটিভ বা সহস্য উপন্যাসের জনপ্রিয় লেখক।

৭. লোমহর্ষক উপন্যাসঃ

যে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয় অতিলৌকিক, যে উপন্যাসে একটি বিস্ময়কর ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং  যে ছত্রে-ছত্রে লোমহর্ষক ঘটনা বিবৃত  তাকে লোমহর্ষক উপন্যাস বলে। এ উপন্যাসে অদ্ভুত রসে সমৃদ্ধ। ভয়ানক পরিবেশ-প্রতিবেশ সৃষ্টিকারী লোমহর্ষক  উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে বিরল।

৮. পত্র উপন্যাসঃ

উপন্যাসে কাহনিী যখন পত্রাকারে পরিবেশন করা হয় তখন রীতির দিক থেকে তা পত্র উপন্যাসের মর্যাদা পায় । পত্র উপন্যাস মূলত পত্র ও উপন্যাসের সমাহার। এখানে পত্রাকারে জীবন-সমাজ ও পরিবার বা ব্যক্তি মানবের দৈনন্দিন জীবন বাস্তবতা চিত্রিত হয়। এখানে বিভন্ন চরিত্রের অভিজ্ঞতা ও মনের অনুভূতি পত্রের আকারে পরস্পর পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয় তাকে বলা হয় পত্র উপন্যাস। বিভুতিভূষণের ‘পানুর চিঠি’, প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘প্রিয়তমাষু’, কাজী নজরূল ইসলামের ‘বাধন হার’ শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘ক্রৌঞ্চ’ প্রভৃতি  এ জাতীয় উপন্যাস।

৯. আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসঃ

নিজের জীবনের ক্ষুদ্র তুচ্ছ স্মৃত-বিস্মৃত ঘটনা যখন ঔপন্যাসিক সমাজ-দেশ-কালের পরিপ্রেক্ষিতে উপন্যাসের গঠন কৌশলে উপস্থাপন করেন, তখন  তাকে আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস বলে। গঠন কৌশলের দিক থেকে আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস কাহিনীপ্রধান নয়, চরিত্রপ্রধান। বিশেষ বিচারে ্ প্রত্যেকটি মহৎ উপন্যাসেই ঔপন্যাসিক নিজেই এ ধরণের উপন্যাসের নায়ক। আত্মজীবনীমূক উপন্যাসে কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষভাবে বর্ণিত হয়  না এবং কোনো চরিত্রের উপর একক প্রাধান্য দেয়া হয় না। এ ধরনের উপন্যাসে পাত্রপাত্রী নিজের কথা নিজেই ব্যক্ত করে এবং তাদের উক্তির সাহয্যেই চরিত্রচিত্রণ ও কাহিনী অংশ গড়ে ওঠে। আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ঔপন্যাসিকের সাহসী পদক্ষেপ। কেননা েএ উপন্যাসে লেখকের জীবনবীক্ষণ চিত্রিত হয় তারই জীবনের কখনো বা পরিবারের ইতবাচক ও নেতিবাচক দিক।
বাংলা উপন্যাসে মীর মশাররফ হোসেনের ‘গাজী মিয়ার বস্তানী’  , শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ আত্মজীবনীমূলক উপণ্যাসের দৃষ্টা্ন্ত। কোনো কোনো সমালোচক বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ কেউ আত্মজীবনীমূখক উপন্যাস বলে দাবি করেন।

১০. বীরত্বব্যঞ্জক ‍ উপন্যাসঃ

কোনো বিশেষ বীরত্বভ্যঞ্জক কাহিনী অবলম্বনে যে উপন্যাস গড়ে ‍ওঠে তাকে বীরত্বব্যঞ্জক উপন্যাস বলে। যেমনঃ- মনীন্দ্রলাল বসুর ‘অজয়কুমার’ উপন্যাস।

১১. পৌরাণিক উপন্যাসঃ

প্রাচীনকালের মানুষের ধর্ম-বিশ্বাস ও সংস্কারকে পুরাণ বলে। প্রাচীন যুগে মানবজীবনে পুরাণের প্রভাব ছিল অপরিসীম। পুরাণের বিষয়বস্তুকে অবলম্বন করে আধুনিক ঔপন্যাসিক যদি নিজের দেশ, সমাজ ও কালের পরিপ্রেক্ষিতে উপন্যাস রচনা করেন, তাকে পৌরাণিক উপন্যাস বলে। এ ধরনের উপন্যাস পৌরাণিক কোনো লোককাহিনী বা জনশ্রুতিকে অবলম্বন করে গড়ে উঠলেও  আধুনিক ঔপন্যাসিকের সমাজমনস্কতা প্রেথিত হয় । যেমন- সত্যেন সেনের ’অভিশপ্ত নগরী’।

১২. হাস্যরসাত্মক উপন্যাসঃ

যে উপন্যাসে মানব জীবনের কোনো অসংগতির দিক সস্নেহে গ্রহন করে লেখক পাঠককে হাসানোর জন্য উপন্যাস  রচনা করে এবং পাঠক যগি উপন্যাস পাঠে হাস্যরসে স্মাত হয়ম, তবে তাকে হাস্যরসাত্মক উপন্যাস বলে। এ ধরণের উপন্যাসে সমাজের  কোনো গভীর দিক যেমন চিত্রিত হয় না, তেননি কোনো তত্ত্ব বা তথ্য  হতে লেখক দূরে থাকেন।  এ জাতীয় উপন্যাসে রচয়িতার একমাত্র লক্ষ্য থাকে  নির্মল হাস্যরস পরিবেশন করা ।  ইন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কল্পতরু’, যোগেন্দ্র বসুর ‘শ্রী শ্র ী রাজলক্ষ্মী, কেদার বন্দ্যাপাধ্যায়ের ‘ কোষ্ঠীর ফলাফল’ উৎকৃষ্ঠ হাস্যরসাত্মক উপন্যাসের উদাহরণ।

১৩. বৃত্তিমূলক উপন্যাসঃ

যে উপন্যাসে বিশেষ বৃত্তিধারী সম্প্রদায়ের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সংস্কৃতি ও জীবনাদর্শন উপস্থাপিত হয়, তাকে বৃত্তিমূলক উপন্যাস বলে। এ ক্ষেত্রে ঔপন্যাসিক কোনো বিশেষ বৃত্তিধারী সমাজ মানুষের জীবনেরবিভিন্ন দিকের ছবি আকেঁন। তারাশঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের’ নাগিনী কন্যার কাহিনী’, সমরেশ বসুর’ বাঘিন’, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সমুদ্র মানুষ’ প্রভৃতি বৃত্তিমূলক উপন্যাসের উদাহরণ।

১৪. রূপক উপন্যাসঃ

উপন্যাসের সাথে বাস্তবতার নিবিড় সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ঔপন্যাসিক যখন বিশেষ কারণে সমাজ বাস্তবতারর বিভিন্ দিক বাস্তব প্রত্যক্ষনা করে রূপরেক ঘেরাটোপের উপন্যাসের আদলে তুলে ধরেন, তখন তাকে রূপক উপন্যাস  বলে। রূপক উপন্যাস সাধারণত উপন্যাসের তুলনায় আঙ্গিক ও বক্তব্য উপস্থাপনারদিক থেকে দুরূহ।রমাপদ চৌধূরীর ‘হৃদয় ’ রূপক উপন্যাসের ‍ উদাহরণ।

১৪. আঞ্চলিক  উপন্যাসঃ

যে উপন্যাসে বিশেষ কোনো অঞ্চলে ভৌগোলিক  পবিবেশে মানুষের নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয় , সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসহ জীবনযাপনের রীতিনীতির সর্বৈব দিক পরিস্ফুটিত হয় তাকে আঞ্জলিক উপন্যাস বলে।  আঞ্জলিক উপন্যাসের চত্রিগুরোর মুখে বিশেষ অঞ্চলে ভাষারীতি ব্যবহৃত হ েয় বিশেষ অঞ্চলের মানুষের জীবনবোধ উচ্চকিত হয়।তবে। আঞ্চলিক উপন্যাস বিশেষ অঞ্চলে কাহিনী হয়েও মানবিক গুণাবলি প্রকাশে  সর্বজনীনতা লাভ করে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের’ ‘ আরণ্যক’  তারশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ হাসুলী বাঁকের উপকথা’ , অদ্বৈত মল্ল বর্মণের   ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ আঞ্চলিক উপন্যাসের দৃষ্টান্ত।

১৫. ভ্রমণ ‍ উপন্যাসঃ

যে ‍ উপন্যাসে লেখকের কোনো দেশ, ঐতিহাসিক বা দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা , ভ্রমণ স্থানের সামাজিক -অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিভিন্ন ধরণের চরিত্র নির্মাণের মধ্যদিয়ে বর্ণিতহয় , তাকে ভ্রণ উপন্যাস বলে।   এ ধরণের উপন্যাসে ভ্রমন স্থানের  প্রকৃতি বর্ণনার সাথে মানবিক গুণাবলি প্রকাশে বিশেষ সর্বজনীনত লাভ করে। লেখকের স্বীয় দৃৃষ্টিতে ধৃত অভিজঞতাও ঘটনাকে ঔপন্যাসিক সমাজ ও দেশ -কালের পরিপ্রেক্ষিতে বচিার্য হয়। মুহম্মদআব্দুল হাই -এর ‘বিলেতের সাড়ে সাতশ দিন’, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপা্ধ্যায়ের ‘ পালামৌ’ ভ্রমণ উপন্যাসের উদাহরণ্।

১৭. চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাসঃ

 যে উপন্যাসে শিল্পি সমাজ-জনগোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহকে চরিত্রসমূহের অন্তর্মূখী চেতনার সাথে মিশ্রিত করে কাহিনীকে পরিণতির দিকে এগিয়ে নেন, তাকে চেতনাপ্রবারীতির উপন্যাস বলে। এ ধরনের উপন্যাসে ক্ষিপ্র অন্তর্দ্বন্দ্বময় ঘটনাপ্রবাহ এবং বহির্জাগতিক ঘটনা সূক্ষ্ম মনন ও চেনাসাপেক্ষে নির্মিত । অর্তৎ ব্যক্তিকে বািইরের  ঘটনার অভ্যন্তরে নিক্ষেপ করে তারন িমনোজাগতিক ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়া  সাপেক্ষে উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত-বিবর্তিত হয়ে পরিণতি পায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘ কাদো নদী কাদো’,  ‘চাঁদের অমবস্যা’ চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাস হিসে বে নন্দিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button